হারিয়ে যাচ্ছে ঘড়িয়াল

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ১৯:১৩
চিড়িয়াখানা বা টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষ করে ডিসকভারি বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে তোমরা হয়েতো ঘড়িয়াল দেখে থাকবে। এটি হলো বিরল প্রজাতির মিঠাপানির কুমির। আমরা মানুষ যেমন স্তন্যপায়ী প্রাণী তেমনি কুমির, টিকটিকির জাত ভাই ঘড়িয়াল হলো সরিসৃপ জাতীয় প্রাণী। এরা অত্যন্ত প্রাচীন প্রাণী। প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে বসবাস করছে এরা। এ দেশে এরা ঘড়েল, বাইশাল বা মেছো কুমির নামেও পরিচিত। এ ছাড়া এদের লম্বা-নাক কুমির, নাকা, নাকার ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। পুরুষ ঘড়িয়ালের ওপরের চোয়ালে, নাকের ঠিক ওপরে, কলস বা ঘড়া আকৃতির একটি পিণ্ড থাকে। এ কারণেই সম্ভবত ঘড়িয়াল নাম। বাচ্চা পুরুষ ঘড়িয়ালের বয়স এক বছর না হওয়া পর্যন্ত ঘড়া চোখে পড়ে না। ঘড়িয়াল দেখতে হুবহু কুমিরের মতো। পার্থক্য শুধু চোয়ালটি। কুমিরের চোয়াল ভোঁতা খাটো, অন্যদিকে ঘড়িয়ালের চোয়াল লম্বাটে শুঁড়ের মতো। শুঁড়ের অংশের ওপরের দিকে ৫০টি এবং নিচে ৪৮টি ছোট ধারালো দাঁত রয়েছে। লম্বায় এগুলো শুঁড়সহ ২০ ফুটের কাছাকাছি। হাতে পাঁচটি ও পায়ে চারটি করে আঙুল ও নখর রয়েছে। গায়ের রং কালচে ধূসর হলেও বাচ্চাগুলো কিছুটা উজ্জ্বল রঙের। চৈত্র মাস ঘড়িয়ালের প্রজনন ঋতু। এ সময়ে মা ঘড়িয়াল নদীর বালিয়াড়িতে ডিম পেড়ে বালি দিয়ে ঢেকে রাখে। এরা একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০টি ডিম পাড়ে। কচ্ছপ-কুমিরের মতোই ডিম ফোটায় এগুলো। ৬০ থেকে ৭৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। সদ্যজাত বাচ্চারা শুঁড়সহ ২২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। মাছ এদের প্রধান খাদ্য। আঁঁশবিহীন মাছ, বিশেষ করে বোয়াল, আইড়, গুঁজি, পাঙাশ বেশি পছন্দ করে এরা। লম্বা চোয়াল মাছ ধরার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বালুচরে রোদ পোহাতে এরা বেশ পছন্দ করে। রোদ পোহানোর সময় সাধারণত বিশাল হাঁ করে থাকে। একসময় বাংলাদেশসহ আমাদের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ, যেমন— ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও মিয়ানমারে এই প্রাণিটির ব্যাপক দেখা মিলতো। আমাদের দেশের বিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় সবপ্রথম ঘড়িয়ালের নাম এসেছে। ইতিমধ্যেই এরা লাল বইয়ে (অর্থাত্ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণিদের তালিকা সম্বলিত বইয়ে) নাম লিখিয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ২০০টির মতো বুনো ঘড়িয়াল টিকে আছে। এরা স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচলেও মানুষের আগ্রাসনের কারণে এরা এখন বিলুপ্তির পথে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঘড়িয়াল টিকিয়ে রাখতে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি জরুরিভিত্তিতে ভারত ও নেপালের মতো এ দেশে কৃত্রিম প জনন ক্ষেত্র তৈরি করা প্রয়োজন।