মা-বাবা ডাকে মীম, পুরো নাম সুমনা আক্তার মীম। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ওর কলেজের নাম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ। শৈশবে ওর শখ ছিলো অঙ্কন শিল্পী হবে। ছবি এঁকে খ্যাতি অর্জন করবে। আর সে লক্ষ্যে একটি বছর একটি অঙ্কন ইশকুলে আঁকাআঁকি শিখেছিলো। তখন মীমের অনেক আঁকা ছবিও ছাপা হয়েছিলো। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরের শুরুটা তখন। মীম জানালো—ছোটবেলা হতেই বই, ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও কমিকস পড়তে ভালো লাগতো। সেগুলো আমাকে খুব আকর্ষণ করতো। মায়ের সহযোগিতায় আমি প্রচুর ছড়া-কবিতা মুখস্থ করেছিলাম এবং পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতা করে জিততাম। আবৃত্তি করতেও ভালো লাগে। যখন বড় বড় লেখকদের বই পড়তাম, তখন নিজেও লেখার কথা ভাবতাম। তবে তার চর্চা করা হয়ে ওঠেনি। ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল বলে আর্ট স্কুলেও ১ বছর ছবি আঁকা শিখেছি। বইমেলা হতে কিনে, অন্যের কাছ থেকে নিয়ে সবসময় গল্প-ছড়া পড়তাম এবং এখনো পড়ি। স্কুলে পড়ালেখায় ভালো ছিলাম। সবসময় পরীক্ষায় ১ম হতাম বলে মেধা পুরস্কার হিসেবেও বই পেতাম যা আমার পড়ার উত্সাহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তারই সূত্র ধরে জে.এস.সি পরীক্ষার পর অবসর সময়ে লেখার তাগিদ অনুভব করি। মনের অজান্তেই অসংখ্য ছড়া-কবিতা ও গল্প লিখে ফেলি। ইত্তেফাক-এর কচি-কাঁচার আসরসহ বিভিন্ন শিশুতোষ পত্রিকা পড়ে লেখা পাঠাই। এক শুক্রবার দেখি নতুন সদস্য হিসেবে আমার নাম আসরে ছাপা হয়েছে। এবং ছড়া ছাপানো হয়। খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই।
মীম ছবি আঁকা বাদ দেয়নি। লেখা বেশি ছাপা হওয়াতে ঝোঁকটা একটু কমেছে বৈকি। আজকাল পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বেশি পড়ছে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন ও মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বই। অন্যদের লেখা বইও সময় পেলে পড়তে বসে। ওর একসময় শখ ছিলো বিভিন্ন রান্না প্রতিযোগিতা ও লেখা-লেখির বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। একটি নয়, দু’টি নয়, ছটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়েছে সে। পুরস্কারগুলো হলো: ইত্তেফাক- তাজ কো. ইসলামী রচনা প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ও ডেন্টাল হ্যান্ডওয়াশ রচনা প্রতিযোগিতা। বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদের পুরস্কার ২ বার পেয়েছে। সে সংবর্ধনাও পেয়েছে। নিয়মিত সাহিত্য সভায় অংশ নিয়ে থাকে। তার জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো। দু’টি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। সুমনা আক্তার মীম নিজের সম্পর্কে খুবই সচেতন। তার কৈশোর জীবনের স্বপ্ন কি?- এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মীম দৃঢ় মনোভাব নিয়ে বললো—
‘পড়ালেখার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রেখে শিশুদের জন্য কাজ করতে চাই। শিশুতোষ গল্প, ছড়া লিখে আনন্দ দানই আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ও প্রেরণা। আমার প্রতিটি গল্প দ্বারা সবাইকে কিছু তথ্য জানাতে চাই। ভবিষ্যতে আমি আমার লেখা দিয়ে বই প্রকাশ করতে চাই। আমাদের সমাজ এবং শিশুদের অধিকার ও ভাবনা তুলে ধরতে চাই। সমাজের ভাবনা ও ভবিষ্যতের কর্ণধার হয়ে নিজেকে একজন সত্ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে চাই। সাহিত্য সাধনার উত্সাহদাতা— আমার বাবা ও মা। প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ এবং বিভিন্ন ঘটনা হতে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখি এবং আঁকি’।
ঢাকার প্রায় সকল দৈনিকের শিশুপাতা ও শিশু-কিশোর মাসিক চিত্র পত্রিকায় লেখা ছাপা হয়। লেখা ছাপা হলেই ভীষণ খুশি। মীম ভীষণ বিনয়ী ও মা-বাবার আদরের মেয়ে। ওর মায়ের নাম জাহানারা আক্তার ও বাবার নাম মো.সুমন সরদার। কচি-কাঁচার আসরেই তার বেশি লেখা ও আঁকা ছাপা হয়েছে।
হাফিজুর রহমান সবুজ
