ছেলেটির নাম আইনান চেলেস্টে কাউলে। সিঙ্গাপুরে বেড়ে ওঠা এই বালক জীবনে সময়ের অপচয় কমই করেছেন। সবকিছুতেই যেন তার একটু বেশিই তাড়া। এই কারণেই বোধহয় মাত্র ৬ মাস বয়সে তিনি হাঁটা শিখে ফেলেছেন! আর ৮ মাস বয়সে তো উসাইন বোল্ট, মানে দৌড়ানো রপ্ত করেছেন! একই সময়ে তিনি পূর্ণ বয়স্কদের মতোই কথা বলতেও শিখেছেন!
বিজ্ঞানের এই বিস্ময় বালক মাত্র ৬ বছর বয়সে সিঙ্গাপুর স্কুলে ‘Acids and Alkalis in Everyday Life’ বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন! মাত্র ৭ বছর ১ মাস বয়সে আইনান ও লেভেল শেষ করেন এবং রসায়ন বিষয়ে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার পান। ২০০৮ সালে সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র হিসাবে সিঙ্গাপুর পলিটেকনিক স্কুলের তৃতীয় পর্যায় শেষ করেন! এই সময়ে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস নেন এবং রসায়নের ল্যাব বিশেষজ্ঞ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয়, আইনান নিজের উদ্যোগে কম্পিউটার স্ক্রিপ্ট লেখা এবং জীববিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। ২০১০ সালে আইনানের পরিবার মালয়েশিয়ায় চলে আসে। উদ্দেশ্য আইনানের উচ্চশিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। আইনানের পরিবার এখনো মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস করছেন। আর আইনান টেইলর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকান ডিগ্রী ট্রান্সফার প্রোগ্রামে পড়াশুনা করছেন। এই প্রোগ্রামের সুবিধা হল তিনি যে কোন বিষয়ে পড়তে পারবেন। তার মেজর সাইন্স হলেও, তিনি এখানে পড়ছেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, এনিমেশন, গণিত এবং থিয়েটার!
আইনানের বর্তমান বয়স ১৩ বছর! এই ১৩ বছর বয়সে তার প্রাপ্তির অন্যতম আরেকটি দিক হল, তিনি ঈশ্বর প্রদত্ত পিয়ানোবাদক। পিয়ানোর পারফর্মেন্স নিয়ে তার ১৫ মিনিটের একটি শর্টফিল্মও আছে! আইনানের আরও দুটি ভাই আছে, একজনের নাম ফিনটান (৯), আরেকজনের নাম টার্নান (৭)। এরা দু’জনও ভাইয়ের দেখানো পথেই অগ্রসর হচ্ছে। তবে আইনানের মতো একই ধরনের প্রতিভা তাদের নয়। তারা নিজেরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হবেন বলেই বিশ্বাস করেন। আইনানের মা বলেন, এমন সন্তানের মা হওয়া সত্যিই গর্বের। আইনানকে যখন সবাই বিস্ময়বালক বলে ডাকে, গর্বে আমার বুক ভরে যায়।
