জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ

ক্যানভাসে আঁকিবুকি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ১৯:১৮
চলমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিবছরই যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হচ্ছে নতুন নতুন বিষয় তেমনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বছর চালু হয়েছে চারুকলা বিভাগ। চারু ও কলা- দুটি ভিন্ন শব্দযোগে গঠিত হয়েছে চারুকলা শব্দটি। এটি মূলত কলা রাজ্যের আওতাভুক্ত। শিল্পকলা হচ্ছে মানুষের সেই স্বভাব, যার সাহায্যে মানুষ তার বস্তুজগেক চিহ্নিত করতে চায়। এটি একটি কৌশল যার সাহায্যে শিল্পী আমাদের দেখার জগেক চিত্রে রূপ দিয়ে থাকেন। কেন চারুকলায় পড়তে আসা জানতে চাইলে চোখের আলোয় ঝলমল করে ওঠা নানারকম স্বপ্নের ভিড় ঠেলে শিক্ষার্থীরা বলেন, মানুষ যোগাযোগে যেমন ভাষা ব্যবহার করে তেমন একজন শিল্পীর ভাষা হচ্ছে তার তুলির আঁচড়ে তৈরি হওয়া চিত্রকর্ম। এই চিত্রের মাধ্যমেই একজন শিল্পী অতীতকে ফুটিয়ে তোলেন বর্তমানে; শিল্পীর সৃজনশীল চিন্তাধারাই বর্তমান সমাজব্যবস্থা পরিবর্তন করে ভবিষ্যত্ সভ্যতা পুনঃনির্মাণে অবদান রাখে। শিক্ষার্থী অনিক সাহা বলছিলেন, এমন শিল্প তৈরির স্বপ্ন দেখি, যা মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা ও সম্ভাবনার উন্মেষ ঘটাতে পারে। জিল্লুর রহমান লিখেছেন, আদিমযুগে চিত্রকলা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান ভাষা ছিল, আজও এর অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। দিপীকা ভূইয়া লিখেছেন, নিজের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সুচারুরূপে তুলে ধরা এবং শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চারুকলায় পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। বাবুল হোসাইন লিখেছেন, চারুকলা একটি শৈল্পিক সাধনা, এটি সৃজনশীল প্রতিভাকে বিকশিত করে। একে নিজের ভেতর ধারণ করে নিজের ভেতরের লুক্বায়িত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ভাল কিছু করতে চাই। এমনি আরও অনেক কথা বলছিলেন ফাইয়াজ, সুমিত, সোহাগ, খাইরুন্নেছা ও অন্যরা। ২০১৩-১৪ সেশনে অর্থাত্ এ বছরই প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলপ্তগীন তুষার। সঙ্গে রয়েছেন আরও তিনজন শিক্ষক ও চারুশিল্পী- বজলুর রশীদ খান, রেজাউল সাদাত ও ইমাম হোসেন। শূন্য থেকে শুরু হলেও নতুন হিসেবে অনেক সমস্যার মধ্যেও ভবিষ্যত্ স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনাগুলো উজ্জ্বল। এখানে সৃজনশীলতায় মেতে উঠেছেন ৪০ জন শিক্ষার্থী। শৈল্পিক মনন নিয়ে ৪ জন শিক্ষকও বন্ধুর মত মিশে গিয়েছেন শিক্ষার্থীদের সাথে। নির্দিষ্ট ভবন এখনো তৈরি হয়নি তবে ক্লাসের জন্য রয়েছে শ্রেণীকক্ষ। রয়েছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। শিল্পচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ যথেষ্ট না হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলার মত জগন্নাথের ক্ষুদ্র ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা খুঁজে নিয়েছেন কাঁঠালতলা। আর পুরানো ঢাকার সরু গলিপথ ও প্রাচীন দালানগুলোতো রয়েছেই। বিভাগের চেয়ারপার্সন আলপ্তগীন তুষার বলছিলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিভাগ খোলা বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স অল্প, চারুকলা বিভাগটিও নতুন। আগামীতে বিভাগটিকে বিশ্বমানের পর্যায়ভুক্ত বিভাগ হিসেবে দাঁড় করানো ও চারুকলা ইনস্টিটিউট করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অনেক আন্তরিক এবং সহযোগিতাপূর্ণ। বিভাগের সূচনালগ্নে খুবই স্বল্প সময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পুরানো ঢাকায় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার মত একটি সুবৃহত্ অসাম্প্রদায়িক উত্সব সফল করেছে। এ ধরনের আয়োজন বিভাগের আগামীর সুন্দর স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়নকে আরো বেশি আস্থাশীল করেছে।