হলরুম ভর্তি দর্শক। হৈ হৈ শব্দে মুখর পুরো ক্যাম্পাস। এমন সময় মঞ্চে উঠেই প্রশ্নটি ছুঁড়ে মারলেন উপস্থাপিকা তাসনিয়া। ‘আপনাদের মধ্যে নবীন কারা কারা রয়েছেন।’ জবাবটা মুখে না দিয়ে হাত তুলে প্রকাশ করলেন সবাই। মাইক্রোফোন হাতে নাজিহা নামের আরেকজন বললেন, ‘না মানে আমরা বলছিলাম তরুণ শিক্ষার্থী কে কে আছেন।’ উত্তরটা এবারও দিতে দেরি করলেন না কেউই। অনেকগুলো হাত গুণতে গিয়ে দেখা গেলো নতুন ভর্তি হওয়া ছেলে-মেয়েদের পাশে রয়েছেন তাদের শিক্ষকরাও।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এভাবেই আনন্দে মাতলেন ছাত্র-শিক্ষকরা। সেদিন সামার সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নতুন ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানান জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। এই উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। নবীন-প্রবীনের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি রুপ নিয়েছিলো অন্যরকম মিলনমেলায়। নাচ, গান, নাটিকা, ফ্যাশন শো— না কোন কিছুই বাদ যায়নি সেই আয়োজনে। ছেলেমেয়েদের মুগ্ধকর পরিবেশনা আনন্দে ভাসায় সবাইকে। এসব পর্বে অংশ নেন সুনান, জিত্, রাজ, নাজমুল, আশিক, ফরহাদ, বিলাশ, শাকিল, সাজন, আজিজ, সাবিল, ফাহিম, রাফসন, সৌরভ, ইসান, তানজিদ, রিফা, মাইশা, ইসা, সাবরিনা, মাহিয়া, তরসা, আনিকা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ‘পাখি পাকা পেপে খায়’ ও ‘ডাব-গাব’ বলতে পারার ধাঁধায় চমক দেখান সহকারী অধ্যাপক রাশেদ আল করিম। লেকচারার তাবাসুম চৌধুরী প্রচণ্ড গরমে মানুষকে শীতল হতে দুই লাইন গান গেয়ে শুনিয়ে পেয়ে যান বাহাবা। ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ আহমেদ তার কথার ফুলঝুড়িতে হাততালি কুড়াতে ভুল করেননি।
ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘পড়ালেখার বাইরে শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল কাজে উত্সাহিত করতে প্রতিবছর আমরা এই ধরনের আয়োজন করে থাকি। এখানে শিক্ষকদের সঙ্গে খুব কাছাকাছিভাবে মেশার সুযোগ পান ছাত্রছাত্রীরা।’
