বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা, স্বাধীনতা চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাজানো হয়েছে দিনটিকে।
শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা প্রস্তুতি
এক এক করে ছয়টি বছর পার করলো। সপ্তম বছরে পা দিতে যাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে ইতোমধ্যে সুপরিচিতি পাওয়া এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা, স্বাধীনতা চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাজানো হয়েছে দিনটিকে। শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা প্রস্তুতি।
পুরাতন জনপদ হিসেবে পাবনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। তা পূরণের পথ তৈরি হয় ২০০১ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে। অবশ্য তা আলোর মুখ দেখে ৭ বছর পর। ২০০৮ সালে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’র কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ঐ বছরের ২৯ জুন নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর তিন মাস পর ১২ অক্টোবর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এসআরও জারি করা হয়। শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয় ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে, পাবনা রাজাপুরস্থ টিটিসিতে (টিসার্স টেনিং কলেজ)। ২০০৯ সালের ৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন হয়। তাই এ দিনটি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ১৩টি বিভাগে চলছে কার্যক্রম। নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ হচ্ছে আরো দুটি বিভাগ। কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটি বেশ বিস্তৃতি লাভ করলেও পুরোপুরি এখনও নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হতে পারেনি। কয়েকটি বিভাগের কার্যক্রম ভাড়া বাসায় চলছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে থাকার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। দুইটি হলের নির্মাণ কাজ চলছে। যা চালু হতে আরো ছয় মাস পার হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি সম্মান ও বিবিএ কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও কলেবর রেড়েছে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও সুনাম অর্জন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আমিন উদ্দিন মৃধা। ২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি নিয়োগ পেয়ে এক বছরের বেশি পদে থাকতে পারেননি। বর্তমান ভিসি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী। এ বছরের ২ জানুয়ারি তিনি যোগদান করেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর প্রফেসর ড. মোজাফ্ফর হোসেনের চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। নতুন ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘দ্বিতীয় বুয়েট’ তৈরির তেজোদ্দীপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী, দুই শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সবাই সহযোগিতা দিয়ে এ শিক্ষাঙ্গনকে দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষার মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন।
