দুই বছরে প্রবাসে নিহত কুমিল্লার ২১ জন

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২১:৩৪
বেকারত্ব ঘুচাতে পরিবার পরিজনদের নিয়ে দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাতে কেনা আশা করে। এমনি আশায় ধার-দেনা করে বিদেশ বিভুঁইয়ে পাড়ি দিয়ে গত দুই বছরে অগ্নিকাণ্ড ও সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কুমিল্লার কমপক্ষে ২১ জন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এরা লাশ হয়ে ফিরেছেন স্বজনদের কাছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম কারো সন্তান, কারো স্বামী ও পিতার করুণ মৃত্যুতে হত-বিহবল হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। তাদের অনেকের সংসার চলে অতিকষ্টে। অনেক পরিবার ঋণের টাকা আজও পরিশোধ করতে পারেনি। শোকের সায়রে দিন কাটছে সন্তান,স্বামী ও পিতাহারা ঋণগ্রস্ত পরিবারগুলোর। নিহতদের মধ্যে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ৯ জন, মুরাদনগরের ২ জন, বুড়িচংয়ের ৩ জন, তিতাসের ৩ জন, হোমনার ৩ জন ও মেঘনা উপজেলার ১ জন রয়েছে। ২০১২ সালের ২৬ মে বাহরাইনের রাজধানী মানামা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রিফা এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নিহত হন। এর মধ্যে ৯ জনের গ্রামের বাড়িই কুমিল্লায়। এদের মধ্যে ৮ জন জেলার সদর দক্ষিণের ও ১ জন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। এরা হলেন- জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কলামিয়া গ্রামের হানিফ মিয়া , তার শ্যালক যশপুর আটিটি বাজার গ্রামের খোরশেদ আলম ও মেয়ের জামাতা জামিয়া গ্রামের মনির হোসাইন এবং একই উপজেলার ভূশ্চি পূর্বপাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান, উত্তরদা গ্রামের আনোয়ার হোসেন, শাকেরা মনিপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, যশপুর গ্রামের সোলায়মান, সুসন্দা গ্রামের আবু তাহের, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুগীরকান্দি গ্রামের আবুল হাসেম। ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবীর আল-আইন এলাকায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন জেলার মুরাদনগর উপজেলার আলীরচর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও একই উপজেলার হিরাপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান। এছাড়া চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনের রাজধানী মানামার মাখারকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে একই কক্ষের ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- জেলার বুড়িচং উপজেলার রামপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন, জালালউদ্দিন ও একই উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের দুলাল মিয়া। সবশেষ গত ১২ মে রাতে সৌদি আরবের রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকায় সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন কুমিল্লার হতভাগ্য আরও ৭ জন শ্রমিক। এরা হচ্ছেন- জেলার তিতাস উপজেলার দুলারামপুর গ্রামের মো. জালাল হোসেন, কালিপুর গ্রামের মো. শাহ আলম, নারান্দিয়া গ্রামের নাজির হোসেন, হোমনার কলাগাছিয়া গ্রামের মতিউর রহমান, চান্দেরচর গ্রামের সেলিম আহমেদ, বাহাউদ্দিন, মেঘনা উপজেলার শিবনগর গ্রামের আবদুল গাফ্ফার।