গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে তা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। তারা বলেছেন, জাতীয়ভাবে গৃহস্থালি কাজের অবদান ও স্বীকৃতি তুলে ধরা হলে পরিবার ও সমাজে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন বাড়বে এবং তাদের প্রতি সহিংসতাও কমবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে নারী নেত্রীরা এ দাবি জানান। ফোরামের সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নারী নেত্রী বিনা শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী রেখা, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শামসুন নাহার জ্যোত্স্না, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু, দিনাজপুর জেলা আহবায়ক বাসন্তি মালাকার, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিপ্রা মন্ডল, সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা প্রমুখ।
সমাবেশে নারী নেত্রীরা বলেন, গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক মূল্য মোট জিডিপির ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যা টাকায় রূপান্তর করা হলে হয়—এক লাখ ১১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা। এই হিসাবে ধরা হয়েছে গৃহের কাজগুলো বিকল্প কাউকে নিয়োগ দিয়ে করালে কত ব্যয় হতো, তার ভিত্তিতে। এর পরও নারীর গৃহস্থালি কাজের আর্থিক কোন মূল্য নির্ধারণ করা হয় না। শুধু তাই নয়, সমাজ ও পরিবারে নারীর এ কাজের কোন স্বীকৃতিও নেই। তাই বাজেটের আগে গৃহস্থালি কাজে নারীর অর্থমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নেত্রীরা সমাবেশে তিন দফা দাবি জানিয়ে বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর শ্রমের অবদানের স্বীকৃতি এবং নারীর অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
নারী নেত্রীরা বলেন, গৃহের কাজে নারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৬ ঘণ্টায় ৪৫ ধরনের কাজ করেন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের মর্যাদা আছে। ফলে সব ধরনের কাজকেই তারা মূল্যায়ন করে এবং অর্থনৈতিক কারণেই সেখানে নারী-পুরুষ উভয়কে ঘরের ও বাইরের কাজে যুক্ত থাকতে হয়। ফলে তাদের জন্যে এটা প্রয়োজনীয় নয়। আমাদের সমাজের মানসিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন, যদি অর্থ উপার্জন করা হয় তো সেটিই কাজ আর অর্থ উপার্জিত না হলে সেটি কোন কাজ নয়। যার কারণে বর্তমান অবস্থায় নারীর গৃহস্থালি কাজের অবদানকে পারিবারিক ও জাতীয় জীবনে তুলে ধরার জন্যে জিডিপিতে এর আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশ শেষে ফোরামের নেত্রীবৃন্দ ছয় সদস্যের একটি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে স্মারকলিপি পেশ করেন।
