সুখের ঠিকানার সন্ধান

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২১:৪২
কে না চায় সুখী হতে। আর এই সুখের জন্য মানুষের কত যুদ্ধ। কেউ ভাবেন কাড়ি কাড়ি টাকা, গাড়ি-বাড়ি, ব্যবসা, মান-মর্যাদা, ক্ষমতা, আধিপত্য, রাজনীতি এসবের মধ্যেই সুখ। আর এই সুখের সন্ধান করতে গিয়ে বিখ্যাত জার্নাল রিডার্স ডাইজেস্ট বিশ্বব্যাপী তাদের পাঠকদের কাছে তাদের মতামত জানতে চায়। দেশ, কাল, পাত্র, ধর্ম-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে শতকরা ৭১ ভাগ মানুষ অভিমত দিয়েছেন পরিবারই হচ্ছে সুখের অন্যতম ঠিকানা। আর ৮৩ ভাগ হাঙ্গেরিয়ান, ৮০ ভাগ চেক রিপাবলিকান, ৭৯ ভাগ সলভেনিয়ান, ৭৮ ভাগ ফিনল্যান্ড, জার্মানীর ৭১ ভাগ, ব্রাজিল ৬৯ ভাগ, আমেরিকান ৬৩ ভাগ মানুষ মনে করেন পরিবারই সুখের অন্যতম উত্স। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জর্জ ভ্যালিয়ান্ট মনে করেন রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কেবল তাদেরকেই পরিবার ধরা হবে তাই নয়, আপনার পারিপার্শ্বিকতায় যারা আপনাকে সেবা দেন, সময় দেন এবং মঙ্গল করেন তাদের অবদানও আপনার সুখের জন্য কম নয়। তবে পরিবারের সুদৃঢ় বন্ধন থাকতে হবে সবার ওপরে। রিডার্স ডাইজেস্ট মূলত ৪টি বিষয়ের উপর মতামত নেন। এসব হলো কমিউনিটি, বিশ্বাস, ফ্যামিলি এবং কাজ। গবেষণায় অংশ নেয়া ১৬ ভাগ মানুষ মনে করেন ফেইথ বা বিশ্বাসই হচ্ছে সুখী হবার পন্থা। আর এ ক্ষেত্রে ৩২ ভাগ আমেরিকান এটা মনে করেন। গবেষণায় দেখা যায় যাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বেশি তারাই অধিক সুখী। কাজের মধ্যে সুখ খুঁজে পাওয়া যায় মাত্র ৭ ভাগ মানুষ এমন মতামত দিয়েছেন। মাত্র ৩ ভাগ মার্কিনিরা বিশ্বাস করে কাজ হচ্ছে সুখী হবার আসল মাধ্যম। গবেষণায় অংশ গ্রহণকারী মাত্র ৬ ভাগ মানুষ মনে করেন সামাজিক বন্ধন বা কমিউনিটি ফ্রেন্ডশীপ সুখী হতে সাহায্য করে। তবে মাত্র ২ ভাগ আমেরিকান এটা বিশ্বাস করেন। মাত্র ১ ভাগ ব্রাজিলিয়ান বিশ্বাস করে সামাজিকতা থেকে সুখ আসে। তবে ইলিয়নস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ড: এড ডিয়েনার যিনি পজিটিভ সাইকোলজি বা স্ট্যাডি অব হ্যাপিনেস নিয়ে কাজ করছেন তার অভিমত একজন ভালো বন্ধু আপনার অত্যন্ত বেদনাময় মুহূর্তগুলোকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, আপনার সবচেয়ে আপনজন যে কাজটি করে তেমনিভাবে। তবে হ্যাপিনেস বা সুখ নিয়ে গবেষণা বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন অভিমতও আছে, শতকরা ৫০ ভাগ মানুষের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যাপিনেস রিসার্সার সোনাজা লিউবোমিরস্কি মনে করেন মাত্র ১০ ভাগ সুখ আসতে পারে মানুষের জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহে। আর এই বিশেষজ্ঞ এটাও মনে করেন ৪০ ভাগ পর্যন্ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন এবং চেষ্টার মাধ্যমে সুখী হওয়া যায়। তবে গবেষণা ও থিওরির বাইরেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন নিজের মত করে মনের পৃথিবী সাজাতে পারলে সুখী হওয়া যায়। লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ