শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে দরিদ্র দেশগুলোকে এক হতে হবে

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২২:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক (ডিজি) রবার্টো অ্যাজেভেডো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে তার সম্মানে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় তিনি এ আহবান জানান। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ২০০৫ সালে হংকংয়ে ডব্লিউটিও’র মন্ত্রী পর্যায়ের সভা এবং পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে একই ধরনের সভায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় বড় বাজারে এই সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প পাচ্ছে না। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর জবাবে ডব্লিউটিও’র ডিজি বলেন, এই ইস্যুটির সমাধান খুব সহজ নয়, কিন্তু সম্ভব। এটি হয়তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বালি প্যাকেজ বাস্তবায়নে এই বছরের শেষ নাগাদ কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে। আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাব-সাহারার দেশগুলোকে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়া হলেও দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস সেই তালিকায় নেই। ডব্লিউটিওকে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রবার্টো অ্যাজেভেডো’র নেতৃত্বে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার দাবিদার হলেও বেশকিছু বাজারে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে। অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প সংরক্ষণের নানা ধরনের নিয়ম অশুল্ক বাধার সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, রপ্তানির অন্যতম বৃহত্ একটি বাজার ডব্লিউটিও’র হংকং ও বালি প্যাকেজের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করছে। এসব দেশে বাংলাদেশি পণ্য যাতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায় সে উদ্যোগ নেয়ার জন্য ডব্লিউটিও’র প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিলেও প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এই সুবিধা পায় না। এর ফলে দেশটিতে সর্বোচ্চ পরিমাণে শুল্ক পরিশোধ করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ। এ সময় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারের সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।