ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারকে আরো একদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে ধরতে বিমানবন্দর ও সীমান্ত চেকপোস্টসমূহের ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মিনারকে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল আমিনের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মিনার মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া একই আদালত অপর আসামি জাহিদুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদেল, মিষ্টার ও সোহেল জড়িত!
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ছাগলনাইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, পৈশাচিক এ হত্যাকাণ্ডে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল, ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জিয়াউল আলম মিষ্টার ও তার সহযোগী বিরিঞ্চি এলাকার রুটি সোহেলের জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে। তারা যেন দেশ ত্যাগ না করতে পারে এজন্য বিমানবন্দর ছাড়াও সীমান্ত চেকপোস্টগুলোতে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে যাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের ব্যাপারেও চিঠি দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ঘুরে ফিরে উল্লেখিতদের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার ১৩ দিনেও তাদেরকে গ্রেফতার করতে না পারায় একরামের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনে রদবদল করার দাবি জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও এমপি নিজাম হাজারীর মামাত ভাই আবিদ আদালতে জবানবন্দিতে জানান, আদেলের বাসায় বসে কিলিং মিশনের ছক আঁকা হয়। আর হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে জাহিদ চৌধুরীর আস্তানা হিসেবে পরিচিত মিজান রোডের সালাম কমিউনিটি সেন্টারে বসে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। ওইসব বৈঠকে কাউন্সিলর শিবলু, মিষ্টারসহ একাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পুরো ঘটনাই আদেল মোটর সাইকেলে ঘুরে তদারকি করেন। আদেলকে গ্রেফতার করলে আরও দুই প্রভাবশালীর নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
পুলিশ সুপার প্রত্যাহার দাবি
পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, একরাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুলগাজীতে স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। গতকাল দুপুরে ফুলগাজী বাজারে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমিতির সভাপতি রফিকুল বারীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নিহত একরামের বড় ভাই ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে একরাম চেয়ারম্যানের খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান এবং ফেনীর পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ও ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মোরশেদকে প্রত্যাহারের দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমী এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে একরামুল হক একরামকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
