আত্মহত্যার পথ ছেড়ে জীবন সংগ্রামে আমিনা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২৩:০১
আত্মহত্যার পথ ছেড়ে এখন জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত আমিনা। পার্থিব জগতে বন্ধু-স্বজন বিহীন। উপার্জনের টাকায় মাথা গোঁজার জন্য নিজের একখণ্ড জমি কেনাই তার একমাত্র লক্ষ্য। প্রায় ৩৫ বছর আগে বাঙালি গৃহবধূ হিসেবে সুন্দর সংসার গড়ার প্রত্যয়ে ১৫ বছর বয়সেই লাল শাড়ি পরে নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ী বাজার এলাকার আলীমুদ্দিনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন একই ইউনিয়নের চিলমারী গ্রামের পিসু মামুদের বড় মেয়ে আমিনা। বিয়ের পাঁচ বছরে কোল জুড়ে আসে এক ছেলে দুই মেয়ে। সুখ বেশিদিন টেকেনি তার কপালে। এক সময় স্বামীর নির্যাতনে স্মৃতিভ্রম ঘটলে সন্তানদের রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ সুযোগে স্বামী আলীমুদ্দিন দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। এক সময় স্মৃতি ফিরে আসলে স্বামী-সন্তানের টানে বাড়ি ফিরে এসে স্বামী-সতিনের নির্মম নির্যাতন সইতে না পেরে আবারও ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। দিনমজুর বাবার ভরণ পোষণের সামর্থ না থাকায় কয়েক মাসের মধ্যে হাজীপাড়া গ্রামের কাছুর সঙ্গে তাকে দ্বিতীয় বারের মত বিয়ে দেন। আরেকবার তিনি স্বামী ও সংসারের মায়ায় জড়ান। ইতোমধ্যে হঠাত্ একদিন শুনতে পান কঠিন এক রোগে আক্রান্ত হয়ে তার তিন সন্তানই মারা গেছে। সন্তান হারানোর কষ্ট বুকে চেপে রেখে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সাত বছর সংসার করার পর এক সময় এ সংসারও ভেঙ্গে যায়। শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে অভাবী পিতার ঘরে না ফিরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। তবে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় বেঁচে যান। এরপর আর বিয়ে না করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী আমিনা একই এলাকার আখতার গাড়ীয়ালের মেয়ে আমীরনের নাগেশ্বরীর সাতানী পাড়ার জায়গায় ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। প্রথমাবস্থায় প্রতিবেশিদের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। নিজে কিছু একটা করার চিন্তায় অন্যের বাগানে কুড়িয়ে পাওয়া সুপারি বিক্রি আর যাকাত-ফেতরার তিনশত টাকা জমিয়ে এক কাদি কলা কিনে ফেরি করে বিক্রি করেন। এ থেকে উপার্জিত অর্থে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে শুঁটকিমাছ, পেয়াজ, মরিচ, লবণ, তেল ডালিতে নিয়ে ফেরি করেন। এভাবে কিছুদিন চলার পরে আয় বৃদ্ধি পেলে সংসার চালানোর পরে জমানো অর্থে একটি রিক্সা ভ্যান তৈরি করে চা-চিনি, চকলেট, বিস্কুট, তেল-লবণের পাশাপাশি ব্যবসায় যুক্ত করেন শাক, সবজি, ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এবার আর নিজের গ্রামে নয় রিক্সা ভ্যান চালিয়ে ছুটতে থাকেন এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে। ভোর না হতেই বেরিয়ে পড়েন। ফেরেন সন্ধ্যার আগে। আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী নারী হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। এখন তিনি স্বপ্ন দেখেন পরিশ্রমের টাকায় এক টুকরা জমি কিনে মাথা গোজার ঠাঁই গড়বার।