প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী’ বলায় নিজ দলীয় সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। অন্যদিকে, মৃত্যুর আগে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। দুটি ঘটনাই ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে। এটি ছিল বর্তমান সরকার ও সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিন।
প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘নাসিম ওসমান কেন জাতীয় পার্টি (জাপা) করতো তা আমি জানি। বিষয়টি এখানে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানেন।’ এসময় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য নিজ আসনে বসেই হইচই করেন। তারা উচ্চৈঃস্বরে বলতে থাকেন ‘কিসের আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী?’, ‘উনি কেন একথা বললেন?’। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই লতিফ সিদ্দিকী পিছনের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়িয়ে বলেন ‘আড়াইবার মানে, আগে দু’বার আর এবার এই যে....., মানে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী’। তখনও আওয়ামী লীগের এসব এমপি বলতে থাকেন ‘কিসের আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী?’ এই পর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেছনের দিকে তাকিয়ে হইচই করা দলীয় এমপিদের উদ্দেশে, ‘এটা কী! হোয়াট ইজ দিস্? এরকম কেন করছেন’, বলে দলীয় এমপিদের নিবৃত্ত করেন।
লতিফ সিদ্দিকী তার বক্তব্যে নাসিম কেন জাপা করতেন সেটির কারণ জানিয়ে বলেন ‘এখানে জেনারেল এরশাদ সাহেব (জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ) উপস্থিত আছেন। তখন ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা ছিলেন, নাম ছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান, আমরা তাকে কালা হাসান বলে ডাকতাম। এই কালা হাসানের মাধ্যমে চাপ দিয়ে নাসিমকে জাতীয় পার্টি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতেও যে কোনো কারণেই হোক, সে আর জাপা ছাড়েনি।’
এদিকে, বড় ভাই নাসিম ওসমানের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমার ভাই যখন মারা গেলেন, তখনও আমার মৃত ভাইকে নিয়ে নানা কুত্সা রটানো হয়েছিল। একটি পত্রিকা একের পর এক লিখেই যাচ্ছে। আমরাও তো মানুষ। স্বজন মরলে আমাদেরও তো কষ্ট হয়। আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে আমি মাথা নত করি না। আমরা সবাই মারা যাবো। আমিও মরবো। দু’দিন পরেও মারা যেতে পারি। আমার স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক মৃত্যু হবে জানি না। কার গুলিতে মরি, জানি না। কারণ শত্রুরা তো চারপাশে ঘুরছে। মরলে আমি আপনাদের কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
শামীম ওসমান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মৃত্যুর আগে দেড় বছর ধরে আমার ভাইকে ভেতরের ও বাইরের কিছু লোক প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। অনেকে বলেন দোষ-ত্রুটির কথা। আমরা একটি বিশেষ শ্রেণীর শিকার। কারণ আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধুর খুনির ছোট ভাই এখনও আমার এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, আমার এলাকায় বোমা হামলার বিচার চেয়ে এখনও পাইনি।
তিনি বলেন, ‘৭৫ থেকে ’৭৯ পর্যন্ত আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমার বাবা দেশের অন্যতম ধনী হওয়া সত্ত্বেও মাত্র নয়শ টাকার জন্য সেদিন পরীক্ষা দিতে পারিনি। আমরা পরিবারের সদস্যরা কখনও এক বেলা খেয়ে থেকেছি, কখনও খাইনি। বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক আমার বাবাকে ফোন করে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ফোনটি ধরেছিল আমার মা। সেদিন আমার মা তাকে বলেছিলেন ‘প্রয়োজনে আমি আমার স্বামীকে হত্যা করব, নতুবা নিজে আত্মহত্যা করবো, কিন্তু আপনার সঙ্গে যেতে দেব না।
