‘তারকাঁটা’র তারকারা

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৪, ২০:১৬
বড়পর্দায় এই প্রথম একসাথে অভিনয় করলেন দুই দশকের চিত্রনায়িকা মৌসুমী, সময়ের গ্রহণযোগ্য নায়ক আরেফিন শুভ এবং লাক্সতারকা মিম। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘তারকাঁটা’তে অভিনয় করেছেন তারা। সেন্সরবোর্ড থেকে বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে মুক্তি পাবে। এই ছবির নানা গল্প নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ মৌসুমী যা বলেন রাজ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘প্রজাপতি’তে অভিনয় করেছি। ও আমার খুব কাছের ছোট ভাই। তার পরিচালনায় কাজ করতে গিয়ে সবসময় তৃপ্তি পাই। আর সে ভাবনাতেই ওর অনুরোধে এবারের ছবিতে অভিনয় করছি। তবে মন থেকে যদি বলি, ‘তারকাঁটা’র গল্পটি বেশ ভালোই সাজিয়েছে। প্রেম চিরন্তন। তাই তো মানুষ প্রেম নিয়েই বেঁচে থাকে সারাজীবন। ‘তারকাঁটা’ চলচ্চিত্রে শুভ ও মিমের প্রেমের সম্পর্ককে বেশ জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির মূল গল্প মৌসুমী ও শুভ দুই ভাইবোনকে নিয়ে। এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক রাজ নিজেই। এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আহমেদ শরীফ, হাসান মাসুদ, ডা. এজাজ, ফারুক আহমেদ, সোহেল খান, দিয়া, চাষী প্রমুখ। পিংপং এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ‘তারকাঁটা’ মূলত অ্যাকশন-রোমান্টিক ঘরানার গল্প দিয়ে গাঁথা। এই ছবির মধ্য দিয়ে শুভ-মিম প্রথম জুটি হয়ে আসছেন বড়পর্দায়। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘রাজ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘প্রজাপতি’তে অভিনয় করেছি। ও আমার খুব কাছের ছোট ভাই। তার পরিচালনায় কাজ করতে গিয়ে সবসময় তৃপ্তি পাই। আর সে ভাবনাতেই ওর অনুরোধে এবারের ছবিতে অভিনয় করছি। তবে মন থেকে যদি বলি, ‘তারকাঁটা’র গল্পটি বেশ ভালোই সাজিয়েছে। সেইসঙ্গে গানগুলোতে নিজের উপস্থাপন বেশ অনুভব করছি। সবমিলিয়ে এই ছবিটি নিয়ে সবার অনেক বেশি স্বপ্ন। এমন হয়েছে, টানা শুটিং করতে গিয়ে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছি। তবুও শুটিং চালিয়ে গেছি। টানা শুটিংয়ের একটি সুবিধা আছে—ক্যারেক্টারে ইনভলব থাকা যায়। মাঝখানে আমরা টেনশনও করেছি। ঠিকমতো সব হচ্ছে তো! পরে পর্দায় দেখে বুঝেছি সবই ঠিক আছে। পরিচালক এমন অনেক কিছুই পরিকল্পনা করেন, যার সবটা তাত্ক্ষণিক বোঝা যায় না। পরে সম্পাদনা শেষে দেখা যায়, তিনি তার কাজটি ঠিকমতোই করেছেন। এ ছাড়াও সবাই ভালো অভিনয় করেছেন। আপনাদের সাপোর্ট পেলে ভবিষ্যতে শুভ ও মিমও হয়তো এ দেশের হাতেগোনা পাঁচজনের দু’জন হতে পারবে। আর রুমির কথা কি বলব! আমি তো ওর ফ্যান হয়ে গেছি। পরিশেষে বলতে চাই সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি সবাই দেখবেন।’ এবার মুখ খুললেন লাক্সতারকা মিম। তিনি বলেন, ‘ছবিতে মৌসুমী আপু ও শুভ ভাইয়ার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দের। সেই সঙ্গে পরিচালক রাজের পরিকল্পনা এবং চিন্তাভাবনা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভীষণ তৃপ্ত আমি। এটি অনেক ভালো একটা ছবি। আর সবাই খুব ভালো অভিনয় করেছেন। ছবির গানগুলোও সুন্দর। আপনারা ছবিটি দেখবেন।’ তার কথা শেষ হতেই আরেফিন শুভ বলেন, ‘রাজের পরিচালনায় ‘ছায়াছবি’তে অভিনয় দিয়েই চলচ্চিত্রে আমার বর্তমানের পদচারণা। অর্থাত্ চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে যখন আমি হতাশ হতে থাকি, ঠিক তখনই পরিচালক রাজ আমাকে নিয়ে ছবি নির্মাণের প্রস্তাব দিলেন। এরপর ‘ছায়াছবি’-তে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয়ের পর থেকে চলচ্চিত্রে একাধিক প্রস্তাব আসতে থাকে আমার। বর্তমানে তো এমন অবস্থা যে, কিছু ছবি ছাড়তে হচ্ছে। তবে ‘তারকাঁটা’র গল্পটি বেশ পছন্দ হয়েছে আমার। আমার চরিত্রটির মধ্যে বেশ মজা রয়েছে। চলচ্চিত্রে এ ধরনের চরিত্রে আমি অভিনয় করিনি এখনও। শুধু এইটুকু বলব, সবাই বলে আমার এই ছবিতে অমুক আছে তমুক আছে। সবাই তার নিজের কাজের প্রশংসা করতে ব্যস্ত। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা ভালো ছবি। সত্যি বলছি, এর আগে এমন ছবি হয়নি। এমন গল্পের কথাও আমার জানা নেই। আপনাদের পাশে চাই। সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন। আমাদের উত্সাহ দেবেন।’ আরফিন রুমির সংগীত পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীরা গান করেছেন। বাংলাদেশের শিল্পীরা হলেন—বেবী নাজনীন, আরফিন রুমি, পারভেজ, কনা, লিজা, পূজা, নাওমী ও খেয়া। ভারতের শিল্পীরা হলেন—সুনিধি চৌহান, মমতা শর্মা ও পালাক মাচাল। অ্যালবামটিতে একটি ইন্সট্রুমেন্টালসহ ১২টি গান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো—‘তুমিহীনা’, ‘আমি তুমি’, ‘জলসাঘর’, ‘তারকাঁটা’, ‘বন্ধন’ ইত্যাদি। গানের কথা লিখেছেন কবির বকুল, অনুরূপ আইচ, জাহিদ আকবর, জনি হক, মাহমুদ মানজুর ও আরফিন রুমি। এই চলচ্চিত্রে গান করা প্রসঙ্গে আরফিন রুমি বলেন, ‘এই ছবির গানে আমি চেষ্টা করেছি মিউজিক কম্পোজিশনে নতুনত্ব আনতে। আর সব শিল্পীরাই খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে গান গেয়েছেন। মিউজিক কম্পোজিশন ও গায়কী সব মিলিয়ে ছবির সব ধরনের দর্শকদের মুগ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’ তৃতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে পরিচালক রাজ বলেন, ‘প্রায় ছয় মাস ধরে একটানা এই ছবির শুটিং, এডিটিং, গান রেকর্ডিং, অডিও অ্যালবাম মুক্তি দিয়েছি। এখানে সবাই খুবই ভালো অভিনয় করেছেন। অপেক্ষায় ছিলাম ছাড়পত্রের। এখন সেটাও পেয়ে গেলাম বিনাকর্তনে। সেন্সরবোর্ডের সদস্যরা ছবিটি দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আশা করছি ‘তারকাঁটা’ নতুন বার্তা দেবে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে।’ ছবির নাম ‘তারকাঁটা’ কেন? উত্তরে রাজ বলেন, ‘তারকাঁটাকে আমি এখানে আঘাতের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছি।’ গত ৩ জুন সন্ধ্যায় বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে এই ছবির গ্র্যান্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছবির পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এরআগে রাজ পরিচালিত ‘প্রজাপতি’ ও ‘ছায়া-ছবি’ নামের দুইটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।