শুভাগমন এবং রিয়াজ...

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৪, ২০:১৭
বেশ কয়েক বছর অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। আবার নিয়মিত হয়েছেন তিনি। তবে এবার পুরোদস্তুর ছোটপর্দায়। প্রস্তুতি নিচ্ছেন বড়পর্দায় ফেরার। এইতো সেদিন ঢাকার বনানীর ‘গল্ফ হাইটস’ বিল্ডিং থেকে রওয়ানা হয়ে রিয়াজ চলে যান সাভারে তার অভিনীত একটি নাটকের লোকেশনে। যেতে যেতে কথা হলো রিয়াজের সঙ্গে। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি ছোটপর্দার নাট্যনির্মাতা শহীদুন্নবী পরিচালিত ‘শুভাগমন’ নাটকের লোকেশনের উদ্দেশে চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে সকাল সাড়ে এগারোটায় রওয়ানা দিই। গাড়িটি রিয়াজ নিজেই ড্রাইভ করছিলেন। এয়ারপোর্ট পেরিয়ে গাড়ি তখন ধীরে ধীরে সাভারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। রিয়াজ জানান ‘শুভাগমন’ নাটকে তিনি একজন জনপ্রিয় নায়কের চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। নাটকে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন চিত্রনায়িকা নিপুণ ও অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলনকে। প্রশ্ন রাখি অনেকদিন পর অভিনয়ে ফিরেছেন। কেমন লাগছে? ‘অভিনয়কে বলা যায় আমার প্রাণের স্পন্দন। জানি না কীভাবে এতোটা দিন এখান থেকে দূরে ছিলাম। তবে যে পেশাতেই মাঝে ক’টা দিন ব্যস্ত ছিলাম মন থেকে খুব বেশি ভালো লাগেনি। আর তাইতো আবার ফিরে এলাম সেই নিজের ভালোলাগার জায়গাতেই।’ ফিরেছেন তো মোহন খানের নির্দেশনায় দুটি নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে? ‘ঠিক তাই, মোহন ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক আগে থেকেই পরিচয়। তিনিই আসলে আমাকে অভিনয়ে ফেরানোর ব্যাপারে বেশি উত্সাহিত করেছেন। তার নির্দেশনায় আমি টেলিফিল্ম ‘ভালোবাসার এক ফোঁটা জল’ ও নাটক ‘গাঙচিলের ঠিকানা’-তে অভিনয় করেছি। দুটোতেই আমার বিপরীতে ছিলেন রুমানা। তবে এ দুটির একটিও এখনও প্রচার হয়নি।’ তার আগেই আপনার অভিনীত সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘এক বছর পরের সন্ধ্যা’ নাটকটি প্রচার হয়েছে। তিশার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করেছেন কেমন লাগল? ‘তিশা নিঃসন্দেহে অনেক গুণী একজন অভিনেত্রী। ভীষণ কো-অপারেটিভও বটে। এ নাটকটি ছাড়া একই পরিচালকের নির্দেশনায় আমি আর তিশা ‘সুন্দরীতমা’ নাটকেও অভিনয় করেছি।’ পহেলা বৈশাখে তো প্রচার হলো ‘এক বছর পরের সন্ধ্যা’। রেসপন্স কেমন পেলেন? ‘বিজ্ঞাপনের কারণে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। এত বিজ্ঞাপন প্রচার হলে দর্শক নাটক উপভোগ করবেন কী করে! নিজের নাটক বলে এভাবে ধৈর্য নিয়ে দেখেছি। আসলে এভাবে বিরতিহীনভাবে বিজ্ঞাপন প্রচারের কোনো মানেই হয় না।’ গাড়ি তখন আশুলিয়া অতিক্রম করে সাভারের দিকে এগিয়ে চলেছে। হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে রিয়াজ বলেন, ‘এই এলাকায় অনেক ছবির শুটিং করেছি। জায়গাটা অনেক খোলামেলা ছিল। আর এখন মানুষ যেমন বেড়েছে, বেড়েছে আবাসস্থল। আমাদের দেশে আসলে অনেক জনসম্পদ রয়েছে। সরকার চাইলেই সেই সম্পদকে শক্তিতে পরিণত করতে পারেন। শুধু কিছু পরিকল্পনামাফিক উদ্যোগের দরকার।’ চলচ্চিত্রেও নিশ্চয়ই বিশেষ বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন? ‘নিশ্চয়ই। কারণ আমাদের সিনেমা একসময় সবশ্রেণীর দর্শক হলে গিয়ে দেখতেন। আর এখন সবাই ঘরে বসেই সিনেমা দেখেন। নতুবা অন্য দেশের নাটক সিনেমা। আমার দেশের দর্শক অন্য দেশের সিনেমা নাটক দেখছে। কেন দেখছেন, কী নেই আমাদের নাটক-সিনেমায় তা খুঁজে বের করে ছবি নির্মাণে নির্মাতা প্রযোজকদের এগিয়ে আসতে হবে। গল্পে, নির্মাণে বিচিত্রতা না আনতে পারলে দর্শক ছবি দেখবে না। এক ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ কিংবা ‘মনপুরা’ কিংবা ‘অগ্নি’ই উদাহরণ হতে পারে না। প্রতিটি ছবিই হতে হবে দর্শকের কাছে ভালো লাগার।’ আপনি তো নিজেই ছবি প্রযোজনা করেছিলেন, এখনও তো করতে পারেন? ‘নিশ্চয়ই পারি। সেধরনের পরিকল্পনা যে নেই, তা নয়। যদি ছবি প্রযোজনায় আবার আসি তবে অবশ্যই একটি কর্পোরেট হাউজ থাকবে। যেখান থেকে বাজার জরিপ করা হবে দর্শক কোন ধরনের ছবি দেখতে চান। শুটিং শুরুর আগেই সবকিছু থাকবে গুছানো এবং পরিকল্পিত।’ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক রিয়াজ, আপনি চলচ্চিত্রের মানুষ। প্লিজ ফিরে আসুন আপনার চেনা পৃথিবীতে।