ছুটে চলা ‘ট্রেন’

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৪, ২০:১৮
ট্রেন শব্দটা শুনলে অনেকেই ভাবতে শুরু করবেন রেল লাইনের উপর দিয়ে ছুটে চলা বাহনটার কথা। কিন্তু যদি জানেন যে এটা একটা ব্যান্ডের নাম তাহলে বোধহয় একটু ধাক্কা খেতে হবে। কিন্তু ব্যান্ডের গানগুলো শুনলে বোঝা যাবে যে, তাদের পথচলা সমান্তরাল পথে ছুটে চলা ট্রেনের মতোই। ‘ট্রেন’ ব্যান্ডের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম ট্রেন একটা আমেরিকান পপ রক ব্যান্ড। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিকো থেকে ব্যান্ডটির অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ট্রেন’ নামের ট্রেনটি। আর যাত্রী হিসেবে ছিলেন প্যাট মোনাহান (ভোকাল), জিমি স্ট্যাফোর্ড (গিটার), স্কট আন্ডারউড (ড্রামস)। তবে প্রথমে রব হটকিস, চার্লি কলিনও ছিলেন। তবে তারা ট্রেনের যাত্রী হিসেবে নাম লেখাতে পারেননি। তার আগেই সরে গিয়েছিলেন তারা। ১৯৯৮ সালে এই ব্যান্ডটি ‘মিট ভার্জিনিয়া’ নামের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। সেই অ্যালবামটি মুক্তির সাথে সাথেই বেশ ভালোই হিট হয়। নব্য ব্যান্ডদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে শুরুতেই বেশ ভালো নাম করেন তাদের ব্যান্ডদল। তাদের এই সাফল্যের পর বেশ কিছু দিন ডুব দিয়েছিলেন তারা। আবার আলোয় আসেন ২০০১ সালে। সেসময় তারা তাদের ভক্তদের জন্য আরও একটি অ্যালবাম উপহার দেন। ‘ড্রপ অব জুপিটার’ নামের অ্যালবামটি ছিল তাদের জন্য বিগ ব্লাস্ট। এই অ্যালবাম তাদের আবার নতুন করে জনপ্রিয়তার সিঁড়ি দেখায়। শুধু তাই নয়, তারা এই অ্যালবামটির জন্য ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড’ পান ২০০২ সালে। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে তাদের এই অ্যালবাম প্লাটিনাম পুরস্কার জিতে নেয়। একযোগে কানাডা এবং আমেরিকাতে তাদের এই অ্যালবাম বেস্ট সেলিং অ্যালবাম হিসেবে নাম লেখায়। এরপর ট্রেন তাদের তৃতীয় অ্যালবাম বের করে। তাদের এই স্টুডিও অ্যালবাম বের হয় ২০০৩ সালে। বের হওয়ার সাথে সাথেই তাদের অ্যালবাম বেশ ভালো ব্যবসা করে। তাদের অ্যালবাম, ‘কলিং অল অ্যাঞ্জেলস’ আমেরিকাতেও সেরা গানের তালিকায় চলে আসে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তা শীর্ষ ১০টি গানের মধ্যে দ্বিতীয়তে উঠে আসে। মাত্র ৩ বছরের ব্যবধানে তারা তাদের চতুর্থ অ্যালবাম ‘ফর মি ইটস ইউ’ ২০০৬ সালে মুক্তি দেয়। এ সময় তাদের সাথে যুক্ত হয় নতুন কিবোর্ডিস্ট জনি কোল্ট। সেখানেও সফলতা পায় তারা। পাশাপাশি নতুন সদস্যকে স্বাগত জানায় পুরো বিশ্ব। সবকিছু মিলিয়েই অ্যালবামটি সফলতার পালক ছুঁয়েছিল। এরমধ্যে কখনও তাদের থেমে যেতে হয়নি। একের পর এক নিত্যনতুন অ্যালবাম উপহার দিয়ে চলেছেন তারা। মাঝখানে কিছু বিরতি দিয়ে ২০০৯ সালে তারা আবার তাদের নতুন একটি অ্যালবাম ভক্তদের উপহার দেন। ‘সেভ মি’ নামের অ্যালবামটিও বেশ সাড়া ফেলে দেয় সব মহলে। এরপর বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ওয়ার্ল্ড টুরে যাওয়ার প্রস্তাব পান তারা। তবে তাতে সেসময় সাড়া দেননি ট্রেন ব্যান্ডটি। তারা মনে করতেন, এখনও ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যাওয়ার মতো অবস্থা তাদের হয়নি। আরও কিছুটা সময় নিয়ে নিজেদের সাজাতে চান তারা। আরও ভালো কিছু কাজ সামনে নিয়ে আসতে চান। এ অ্যালবামের ‘হেই, সোল সিস্টার’, ‘ইফ ইটস লভ’ এবং ‘ম্যারি মি’ গানগুলো ব্যাপক হিট হয়। সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় উঠে আসে গানগুলো। শুধু তাই নয়, বিলবোর্ডের হট ১০০ গানের শীর্ষে নাম লেখায় তাদের অ্যালবাম। এরপর শুরু করেন তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত ওয়ার্ল্ড ট্যুর। এপ্রিল, ২০১২ সাল। ট্রেন তাদের ৬ নম্বর অ্যালবামটি মুক্তি দেয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। সেটা ছিল ‘ড্রাইভ বাই’ নামে। এই অ্যালবামটি একযোগে বিলবোর্ডে এবং ইউকে টপ টেনে চলে আসে। সেই সাথে সেরা ২০ সিঙ্গেল গানের তালিকাতেও আসে।