স্পেনের খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, শিরোপা রক্ষায় পুরোপুরি ফিট হয়েই তারা ব্রাজিল যাবেন। ক্লাবের হয়ে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ব্যস্ত থাকায় বিশ্বকাপের আগে বিশ্রামের তেমন সুযোগ পায়নি তারা। এরপরও শিরোপা ধরে রাখতে পূর্ণ ফিটনেস নিয়েই স্পেন ব্রাজিলে উড়াল দেবে বলে জানালেন ভিসেন্ত দেল বস্কের শিষ্যরা। দলে রাইট-ব্যাক হুয়ানফ্রা একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এখনো চোটে ভুগছেন। তবে এই ইনজুরিতে হতাশ নন তিনি। বিশ্বকাপের আগেই শতভাগ সুস্থতা ও প্রস্তুতির ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিলেন হুয়ানফ্রা। ওয়াশিংটনে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ফিটনেসের ব্যাপারে এভাবেই আত্মবিশ্বাসের কথা জানালেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার, ‘আমার কোনো সমস্যা নেই। দলের সঙ্গে আমারও শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।’
গত মাসের ২৪ তারিখ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলতে নামলে হুয়ানফ্রার গোড়ালি মচকে যায়। চোটের ব্যথাটা বেশিই ছিল বলে জানালেন ২৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়েছিল তাকে। চোট এখন কাটিয়ে উঠেছেন বলে জানালেন হুয়ানফ্রা। একইসঙ্গে কোচ দেল বস্ককেও বলে রাখলেন, ‘আপনার প্রয়োজন হলে, আমি খেলতে প্রস্তুত। আমি আমার সেরাটা দিয়েই খেলবো। ক্যারিয়ারে আমি বেশকিছু কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছি। এসব কিছু অতিক্রম করে এসেছি আমি। এই চোটটাও এমন একটিই ছিল।’
স্পেন স্কোয়াডের সাতজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছেন। এজন্য খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সইতে হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া এসব খেলোয়াড় নিজেকে তৈরি করে নিতে তেমন সময় পায়নি।
জাতীয় দলের হয়ে ধকল গেছে স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর। বিবিসি’র একটি হিসাব অন্তত তাই বলছে। বিশ্বকাপ খেলছে এমন দলগুলোর সম্ভাব্য লাইন-আপ ২০১৩-১৪ মৌসুমে জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে মোট কী পরিমাণ সময় খেলেছেন এর একটি তুলনামূলক হিসাব প্রকাশ করেছে বিসিসি। হিসাব অনুযায়ী ২০১৩-১৪ মৌসুমে স্পেনের সম্ভাব্য লাইপ-আপ সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৮৮৮ মিনিট খেলেছে। এই দৌড়ে স্পেনের নিকটেই রয়েছে ইতালি। আজ্জুরিদের লাইন-আপ খেলেছে ৩৭ হাজার ১৩০ মিনিট, ইংল্যান্ডের লাইন-আপ খেলেছে ৩৪ হাজার ৪১০ মিনিট এবং এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিলের লাইন-আপ খেলেছে ৩০ হাজার ৬৫৬ মিনিট।
খেলোয়াড়দের ওপর চাপ গেলেও স্পেনের প্রস্তুতি তাদের কোনো প্রতিপক্ষের চেয়ে কম নয় বলে জানালেন মিডফিল্ডার সান্তি ক্যাজোরলা, ‘এবারের মৌসুমটা সবার জন্যই কঠিন ছিল। এরপরও আমরা অন্য কোনো দলের চেয়ে বেশি বা কম ক্লান্ত না। স্পেন দল শারীরিকভাবে দিন দিন আরও ভালোর দিকে এগুচ্ছে।’
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন স্প্যানিশ-ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তা। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই সতীর্থের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ। আমার বিশ্বাস বিশ্বকাপে সে সেরা খেলোয়াড়দের একজন হবে।’
স্পেন দল সোমবার ওয়াশিংটনে পৌঁছায়। সেখানকার কন্ডিশন ব্রাজিলের মতোই আর্দ্র। ব্রাজিলে উড়াল দেয়ার আগে আগামী শনিবার ওয়াশিংটনে এল সালভাদরের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দেল বস্কের দল। বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে স্পেন ১৩ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গত বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে। গ্রুপের অপর দুই দল চিলি ও অস্ট্রেলিয়া।
