আর্জেন্টিনা কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন তিনি। প্রাথমিক তালিকা থেকে তিন জনকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত দল ঘোষণার ক্ষেত্রে তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় নেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের কাজে সন্তুষ্টিই ঝরেছে এই আর্জেন্টাইনের কণ্ঠে। কেননা তিনি মনে করেন নিজের নির্বাচিত আক্রমণভাগ বিশ্বকাপে যে কোন দলকে বিপদে ফেলতে সক্ষম।
কোচ সাবেলার দল ১৫ জুন বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। তার আগে গতকাল শেষ রাতে ত্রিনিদাদ-টোবাগোর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে নামার প্রাক্কালে এ কথা বলেন লিওনেল মেসিদের কোচ। বুয়েন্স আয়ার্সে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের এই সংবাদ সম্মেলনেই দল নিয়ে নিজের দ্বিধার ব্যাপারটা তুলে ধরেন তিনি।
ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দল নির্ধারিত সময়ের আগেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলেও সাবেলা অপেক্ষা করেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। কোন তিনজনকে বাদ দেবেন সেটা বুঝতে সময় লাগছিল জানিয়ে সাবেক এস্তোদিয়ান্তে কোচ বলেন, ‘আমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বিধা ছিল। বাদ পড়া তিন জন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেয়াটা কঠিন ছিল। আমি সব সময়ই দলটাকে সম্মান করে এসেছি। কারণ, ভাল একটা দলের মূল্য আমি জানি। ভিসেন্তে দেল বস্কের মতো বিখ্যাত কিছু ব্যক্তিও আমার কথায় সমর্থন জানিয়েছেন। তাছাড়া আমার বেশ কিছু সহকর্মীও আমার সিদ্ধান্তে আস্থা রেখেছেন। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় নিয়েছি আমি। কারণ, আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।’
এভার বানেগা, হোসে সোসা ও নিকোলাস ওটাম্যান্ডিকে বাদ দেয়ার কারণ না জানালেও দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই কোচ।
এদিকে, কার্লোস তেভেজের মতো স্ট্রাইকার কিংবা বানেগার মতো মিডফিল্ডার না থাকলেও আর্জেন্টিনার এই দল যে কারো মোকাবেলা করতে সক্ষম বলেই বিশ্বাস সাবেলার।
মেসি-অ্যাগুয়েরো সমন্বিত আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের উপর তার পূর্ণ বিশ্বাস আছে জানিয়ে সাবেলা বলেন, ‘দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছেন। বিশেষ করে আক্রমণভাগে। লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুইন, সার্জিও অ্যাগুয়েরো এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া; তাদের নিয়ে আপনি আশাবাদী হতেই পারেন এবং আমি যথেষ্টই আশাবাদী। প্রত্যেক ভক্তই আশা করে আছে তারা তাদের সেরা ফর্মে একসাথে দেখা দেবেন।’
ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমের শেষ দিকে চোট পাওয়া মেসি এখন পুরোপুরি সুস্থ জানিয়ে সাবেলা বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি মেসি দারুণ ছন্দে আছে। সতীর্থদের সাথে সে কাজ করছে এবং কিভাবে দলের সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করা যায় সে নিয়ে ভাবছে।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবার ব্যাপারে কি ভাবছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেলা জানান, সেরকমটা হলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ কিছুই অপেক্ষা করছে। আর দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপরেও জোর দিচ্ছেন তিনি, ‘আমরা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের উচ্চমানের কথা জানি। তারাও জানে আমাদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে। যদি সেরকমটা (মুখোমুখিতা) হয় তাহলে দুর্দান্ত একটা দ্বৈরথই অপেক্ষা করছে সবার জন্য। একজন আর্জেন্টাইন হিসাবে আমি চাই এটা কেবল মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। কারণ, এই দেশ দুটি ভাইয়ের মতো। লাতিন ফুটবলের চালিকাশক্তি বলা চলে তাদের। সুন্দরভাবে জীবন যাপনের জন্য আমাদের আসলে পরস্পরের উপর নির্ভর করতে হয়।’ —ওয়েবসাইট
