নেইমার ঝলকে জয়ী ব্রাজিল

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৪, ২২:২১
নেইমারের দুর্দান্তপনায় ব্রাজিল বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে দ্বিতীয় শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতলো পানামার বিরুদ্ধে। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডটি গোলের সূচনার পর দানি আলভেজ, হাল্ক ও উইলিয়ান ব্যবধানটি এমন অনায়াস করে তোলেন। দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোলগুলো বেশ আয়েস করে পাওয়া হলেও তাতে ব্রাজিলীয়দের নৈপুণ্য ছিল দর্শকদের মুগ্ধতায় জড়ানো। বিশেষ করে নেইমার ও হাল্ক। নেইমারের এটি হলো ক্যারিয়ারের ২০০তম গোল। জাতীয় দলের হয়ে ৩১তম। নিজের এমন নৈপুণ্যের পরও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়টি মনে করেন বিশ্বকাপের জন্য তার আরো উন্নতি দরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো প্রস্তুত নই। শেষ দিকে তো আমি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। অনুশীলনে একটু একটু করে আমি উন্নতি করছি এবং শারীরিকভাবে আরো ভাল অবস্থায় পৌঁছাচ্ছি। এখনো তো নয় দিন সময় আছে।’ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পানামাও দু:সাহসী হয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল। কিন্তু গোল করার মতো সেরকম সুযোগ বের করতে পারেনি দলটি। এর মধ্যেই ২৭ মিনিটে চোখ জুড়ানো এক ফ্রিকিকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন নেইমার। ২০ গজ দূর থেকে নেয়া তার চোখে লেগে থাকা শটটি বিপক্ষ গোলরক্ষক নিজের ডানে ঝাঁপিয়েও রক্ষা করতে পারেননি। এস্তাদিও সেরা দউদারাদায় অনুষ্ঠিত খেলাটিতে এর ৩০ মিনিট পর নেইমারের বার্সেলোনা সতীর্থ আলভেজ বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ের গড়ানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। হাল্ক খেলাটি পুনরায় শুরু হওয়া মাত্রই নেইমারের চোখের পলকে দেয়া এক ব্যাকহিল আয়ত্তে নিয়ে বাম পায়ের আলতো টোকায় জালে পাঠান বল। বদলি হিসেবে মাঠে নামা উইলিয়ান গোল পর্বের সমাপ্তি ঘটান। এ প্রয়াসটিতেও অবদান ছিল নেইমারের। আলভেজ পরে বলেন, ‘আমি মনে করি আজ খেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ ছিল খেলা, দলের সবার আবারো একাত্ম হওয়া এবং ফর্মে ফিরে আসা যাতে করে উদ্বোধনী খেলাটিতে একটা ফল পাওয়া যায়। সবাই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, সবাই কিছু না কিছু করেছে। সেটাই আমাদের দলটিকে শক্তিশালী করে তোলে, সবাই একে-অপরকে সহযোগিতা করেছে।’ আগের ১৪টি খেলার মধ্যে ১৩টিতে জয়ী হলেও ব্রাজিল সমর্থকরা এদিন শুরুর দিকে দলের খেলায় সন্তুষ্ট ছিল না। সে জন্য তারা নিজের দলকেও সমালোচনা করে। নেইমার অবশ্য এ প্রসঙ্গে সমর্থকদের আরো কিছুটা ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান। ব্রাজিলের এই ‘পোস্টার বয়’ বলেন, ‘আমাদের দরকার সমর্থকদের তরফে আরেকটু ধৈর্য। যদিও তারা শুরুর দিকে আমাদের দুয়ো ধ্বনি দিচ্ছিল। একবার আমরা যখন খেলার গতিটা ধরে ফেলবো, মাঠের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠবো, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই ভাল খেলবো, ছন্দ এবং গোল দুটোই পাবো।’ তবে নেইমারের গোলটির পর দর্শকরা শান্ত হয়। এরপরের কাহিনী শুধুই ব্রাজিল। সে তুলনায় এবারের বিশ্বকাপের অল্পের জন্য চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়া পানামা খুব সামান্য সময়ই স্বাগতিকদের ভোগাতে পেরেছিল। ব্রাজিল ১৯৫০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করছে এবং সাও পাওলোতে ১২ জুন ক্রোয়েশিয়ার মোকাবেলার মধ্যদিয়ে ষষ্ঠ শিরোপার অভিযান শুরু করবে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ হলো মেক্সিকো ও ক্যামেরুন। নেইমাররা আগামীকাল শুক্রবার বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে।