জীবন জীবিকার তাগিদে রুটি আর রুজির জন্য, পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষনের ব্যবস্থার জন্য দিনের বেশীর ভাগ সময়, জীবনের অধিকাংশ সময়ে পুরুষদেরকে ঘরের বাইরে অবস্থান করতে হয়। সকালে বের হয়ে কেউ দুপুরে, কেউ বিকেলে, কেউ সন্ধ্যায়, কেউ বা রাত্রে ঘরে ফিরেন। প্রবাসে যারা থাকেন তারা দুই/চার বছর পর দুই/চার মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। পুরুষদের বাহিরে অবস্থানের কারণে এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার রূপী ছোট সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব থাকে স্ত্রীদের-নারীদের হাতে। এ কারণেই স্ত্রী হয়ে থাকেন গৃহের পরিচালিকা, গৃহরূপী রাজ্যের রাণী। তাইতো রাসূল (স.) এরশাদ করেন, “স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের জিম্মাদার, তাকে সে জিম্মা সম্পর্কে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে”। স্বামীর ধন-সম্পদ, জিনিসপত্র, মান-সম্মান সব কিছুর হেফাজত করা এবং সন্তান-সন্তুতিকে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও উপহার হিসাবে তাদেরকে আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব মা-দের/নারীদের। গৃহের কর্ত্রী আর সমাজের অর্ধাঙ্গিনী হিসাবে, আল্লাহর বান্দা এবং রসূলের উম্মত হিসাবে একজন আদর্শ নারীর দৈনন্দিন কাজকর্ম নুিরূপ হলে কেমন হয়? (১) ফজরের আযানের সাথে সাথেই ঘুম থেকে জাগবেন এবং ঘুম থেকে উঠার দোয়া পড়বেন। তারপর পরিবারের অন্যান্যদেরকে জাগিয়ে দিয়ে ছেলে সন্তান সহ পুরুষদেরকে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ মুখী করে দেবেন। আর মেয়ে সন্তান সহ মহিলাদের ফজরের নামাজ ওয়াক্তমত ঘরে আদায় নিশ্চিত করবেন। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনার ঘরে/বাসায় নামাজ রোযার সময় নির্ধারণী একটা চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার রাখুন। কারণ ওয়াক্তমতো নামাজ পড়া ফরজ। ওয়াক্তের সময় না জানার কারণে অনেকে হারাম সময়ে নামাজ আদায় করে গুনাহগার হন। ফজরের নামাজ শেষে সুযোগ থাকলে একটু হাঁটাহাঁটি করুন, অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করুন। হাঁটতে পারেন আর নাই পারেন কুরআন তেলাওয়াত করতে কিন্তু ভুলবেন না। অল্প হলেও কুরআন তেলাওয়াত করুন, চেষ্টা করুন অর্থসহ তেলাওয়াত করতে, বুঝে পড়তে। পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্য প্রতিদিন যাতে কুরআন তেলাওয়াত করে তা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাগিদ দিতে হবে, উত্সাহিত করতে হবে। তারপর সকালের নাস্তার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েরা পড়া-লেখা করছে কিনা তা নিশ্চিত হউন, মাঝে মাঝে ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার তদারকি করুন। নাস্তার আগে বা পরে পরিবারের অন্য সদস্য-সদস্যাদেরকে হাদিস, ইসলামী বই, মাসলা-মাসায়েল পড়তে উদ্বুদ্ধ করুন। এক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে (ক) আসান ফিকাহ্- প্রথম খন্ড (মাও. মো. ইউছুফ ইসলাহী), (খ) বেহেস্ত ও দোযখ- তাবলীগী কুতুবখানা (মাও. সাখাওয়াত উল্যা), (গ) আদি ‘ইয়ায়ে মাসনুনাহ, (নাদিয়াতুল কোরআন), (ঘ) গীবত, (ঙ) নুজহাতুল ক্বারী (মাও. ক্বারী ইব্রাহীম রহ.) (চ) মৃত্যু যবনিকার ওপারে (ছ) আদাবে জিন্দিগি (আল্লামা ইউসুফ ইসলাহী), (জ) কবিরা গুনাহ্ (ইমাম আযযাহাবী), (ঝ) হাদিসের কিস্সা (ঞ) রাহে আমল-প্রথম খন্ড (আল্লামা জলিল আহসান নদভী) এ বই গুলো আপনি সংগ্রহ করুন। দ্বিতীয পর্যায়ে আপনি সংগ্রহের চেষ্টা করুন (ক) সুরা ফাতেহার তাফসির, (খ) কুরআনের শেষ পারার তাফসির (ত্রিশতম পারা), (গ) রিয়াদুস সালেহীন- ৪ খন্ড, (ঘ) ওসওয়ায়ে রাসুল আকরাম (স.) (মদিনা পাবলিকেশন্স), (ঙ) প্রেষ্টিজ কনসার্নড (জহুরী), (চ) কোরআনের কাহিনী, (ছ) সুন্নত ও বিদয়াত (মাওঃ আবদুর রহিম) বই গুলো। এ ছাড়া নিয়মিত পড়ুন মাসিক আদর্শ নারী, মাসিক মদিনা, মাসিক পৃথিবী, মাসিক আল-কাওসার, মাসিক রহমত। (২) রান্না-বান্নাসহ গৃহস্থলীর কাজ সহ গোসল যোহরের আযানের আগেই সেরে ফেলুন। আপনি হয়তো যোহরের আযানের আগে এ কাজ গুলো সারতে এতদিন অভ্যস্ত ছিলেন না। দুই/চারদিন একটু ঝামেলা মনে হলেও ইচ্ছে করুন এবং চেষ্টা করুন, দেখবেন যোহরের আগেই আপনার সব কাজ শেষ করা সম্ভব। যোহরের আযানের সাথে সাথে পুরুষদেরকে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য পাঠিয়ে দিয়ে এ ফাঁকে আপনিসহ মহিলাগন যোহরের নামাজ আদায় করে নিন।
