‘এই পথ অচেনা নয়। একদিন এখান থেকেই খুঁজে পেয়েছি শিখাপুচ্ছ। দু-পাশের কোনো একটি গাছেই ছিল মোহনবাঁশি।’ উক্তিটি অমিতেশ মাইতির বৃক্ষের স্মৃতি থেকে নেয়া। চেনা গাছ, সবুজ রঙ, টুকরো টুকরো ধবধবে সাদা আকৃতি সমস্ত চিত্রতলে। অপূর্ব রঞ্জন বিশ্বাস ২৬টি অ্যাক্রেলিক ও কালি কলমের কাজে বিষয় হিসেবে আবহমান বাংলাকে বেছে নিয়েছেন। প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক। জ্যামিতিক নির্বস্তুক আয়োজনে হাজির করেছেন আধাবিমূর্ত মানুষ ও প্রাণীর অবয়ব। রঙ নির্বাচনে নীল, ধূসর, মেটে হলুদ ও সবুজকে বেছে নিয়েছেন। দৃষ্টির চলাচলকে চিত্রতলে স্থির না করে আকৃতি পুরো ক্যানভাসে ছড়িয়েছেন। প্রকৃতি নিয়ে কাজ প্রসঙ্গেই নিজে বলেন—‘এভাবে সুন্দরের অন্বেষণ করতে হলে প্রকৃতির কাছেই যেতে হয়।’ অপূর্ব এই নগরে বসবাস করলেও তাঁর আঁকা ছবিতে বারবার হাজির হয় গ্রামীণ জনজীবন। নাগরিক হয়ে উঠতে পারেননি অপূর্ব। জল, কাদামাখা মন নিয়ে তিনি এ শহরে পথ চলেন। সৌন্দর্যের খোঁজে চিরচেনা গ্রামের কৃষকের কাছে যান। সবুজ গাছ, জলে ভাসা নৌকা, ঝড়ের আগে মেঘের হাতছানি অপূর্বের বিষয়। প্রদর্শনীর সবগুলো ছবির শিরোনাম ‘ন্যাচার অ্যান্ড পিপল ক্লোজ টু দ্য ন্যাচার’। রঙের সাথে আকৃতির নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করে সাদা ছোট বুনট ছেড়ে ছবিতে এক বিভ্রম তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। প্রকৃতির সরাসরি উপস্থাপনের পরিবর্তে ত্রিভুজ ও চৌকোনো সাজসজ্জার দিকে মনোযোগী হয়েছেন তিনি। ইউরোপীয় শিল্পকলার ইম্প্রেশনিস্ট ধারার শিল্পীদের মাঝে বুনট ও আলোছায়ার প্রক্ষেপণে নিরীক্ষা প্রবণতার কথা আমারা জানি। পরবর্তীকালে পিকাসোর জ্যামিতিনির্ভর শিল্পসৃষ্টি আমাদের অবাক করে দিয়েছে। অপূর্বর আঁকা ছবিতে গাঢ় নীল, সবুজ, মেটে হলুদ রঙ ভেদ করে জ্যামিতিক আকৃতির উদ্ভাসন মায়া তৈরি করে। রঙ রেখা আকৃতি আর ছন্দনির্ভর প্রয়োগদক্ষতা সাম্প্রতিক কাজে বোঝা যায়। বাংলার ষড়ঋতুর রঙের বৈচিত্র্য, সাথে আবহমান বাংলার দৈনন্দিন জীবন যাপনের প্রকৃতি এবারের প্রদর্শনীতে দেখা যাবে। অলিয়ঁস ফ্রাসেজের গ্যালারি জুমে এ প্রদর্শনী শুরু হবে আজ শুক্রবার ৬ জুন ২০১৪।
