এ ছায়াটি পিছু পিছু ঘুরঘুর করে
অহোরাত্র মন্ত্র দেয়
করো চাষ শব্দের, পুষ্পের
শস্যের জমিনে বাহারী বৃক্ষের বিতান
তেমনি বাক্য বিন্যাসিত হোক শব্দের বুননে।
কখনো এ ছায়ার বর্ণও থাকে না
কদাচ স্পর্শযোগ্য হতে হতে মিলিয়ে যায়
অস্তগামী সূর্যের নরম আলোয়
এ ছায়া দিঘল থেকে দিঘলতর বাড়ে।
অসহায় অক্ষম সামান্য মানব
সভয়ে অস্ফুট বলতে পারে ‘তুই মর’
এ কথায় ছায়াটির নবজন্মই ঘটে
পিছু ফিরতেই আসে অজস্র হয়ে।
সেইবার রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে
ছায়ামূর্তি অদৃশ্য হলে
দেখে এক সবুজ কাগজের ফর্দ
সে তালিকায় কবিতার সাথে জড়াজড়ি করে
প্রতিবাদ, ক্ষোভ আর প্রার্থনার ভঙ্গি
আর থাকে প্রেম ও মমতার কর্ষণ।
বিকারগ্রস্ত মানব বিভ্রমেও নত
আর বার এলে বলে,
‘তুই সত্যিই মর হে মহান ছায়া,
না হয় আমিই মরি
কঙ্কালের কাচে নিশ্চয় আসবি না তুই।’
ছায়াটি বললো হেসে : কবিতার লাঙ্গল আর জোয়াল
কাঁধে তুলে এরই মধ্যে মরেছিস তুই,
তোর লাঙ্গলের মুঠোয় ধরে কাব্যের দেবী
বলছে শোন্—এই হাঁট্ হাঁট্ হাঁ্ট।
