এত ঝোপঝাড় কী করে হলো রে খোকন? এত জঙ্গল-ই-বা জন্মালো কী করে?
তোরা সব করিস কী? কী এত ব্যস্ততা তোদের? নিজের ঘর, নিজের বাড়ি
এর চারপাশটাও তো নিজের-ই, নাকি? এখানে একটা ডালিম গাছের চারা
ছিল, আর ওই বামদিকের সজনে গাছটা? নিম, কড়ই, অর্জুন এ গুলোই বা
গেল কোথায়? প্রতি বছর কাঁঠাল গাছের ডাল ছেঁটে দিতে হয় বুঝলি?
বাপ-দাদার পুকুরটা ভরাট করে ফেললি, খোকা? ক’দিন হলো একটু বাইরে
গেছি? ক’দিন! এক সপ্তাহ? এক বছর? একুশ কিংবা একচল্লিশ বছর...?
এর-ই মাঝে সবকিছু ওলট-পালট করে দিলি? ঘরটাও তো বিবর্ণ হয়ে গেছে
দেখছি! বেড়াগুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে। তোরা কি ভেবেছিস আমি আর ফিরব
না? এই তোদের বিশ্বাস, এই তোদের আস্থা? আমি মরে গেলে কী করবি
তোরা, কী করবি হে? তোদের মা কোথায় রে? এই বলে বাবা ঘরে ঢুকতে
গেলে-আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরতে গেলাম—আর অমনি বাবা হাওয়া হয়ে
গেলেন শূন্যে... ঐ দূর চাঁদের দেশ থেকে দেখি বাবা হাত নাড়ছেন...
আমি প্রায় রাতেই বাবাকে চাঁদের ভেতরের গাছ-গাছালির বাড়ন্ত ডালপালাগুলো এক মনে ছেঁটে দিতে দেখি...
