দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, হয়রানি

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২১:১৫
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদাবাজি রোধে দুদক কর্মকর্তাদের অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজে টেলিফোন ও মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। একইসঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য জনসাধারণের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। কমিশন বলছে, কোন ব্যক্তি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, টেলিফোন নম্বর-৯৩৫২৫৫২) এর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুদকের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাধিক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোনে কাল্পনিক অভিযোগ অথবা কমিশনের বিবেচনাধীন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আশ্বাসসহ নানা প্রকার ভয়-ভীতি দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করে। কেউ কেউ তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বা হয়েছেন। তবে দৃঢ় চিত্ত কেউ কেউ বিষয়টি কমিশনের নজরে এনেছেন। এ প্রেক্ষাপটে কমিশন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য র্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছে। ইতিপূর্বে এ প্রতারক চক্রের একাধিক সদস্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অতি সমপ্রতি এ জাতীয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী দু’-একজন বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কারো একক অভিপ্রায় অনুযায়ী দুদকের তফসিলভুক্ত কোন অপরাধের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু, মামলা রুজু, তদন্ত পরিচালনা এবং অভিযোগ বা মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুযোগ নেই। দুদকে কোন অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তা লিখিতভাবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিত করে থাকেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কমিশনের অনুসন্ধানকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ ক্ষেত্রে সকল প্রকার যোগাযোগ লিখিতভাবে করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোন ব্যক্তি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিকটস্থ থানা অথবা র্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্যও বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।