এদেশের চলচ্চিত্রের মানুষদের সাথে আড্ডা দিতে চাই

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
প্রথম দিকে আওয়াজ উঠেছিল, যে রাইমা অভিনীত ‘যুদ্ধশিশু’ চলচ্চিত্রের ক্যাম্পেইনে আসবেন তিনি। কিন্তু ছবির পরিবেশকরা তাকে আনতে ব্যর্থ হন। প্রশ্ন করলে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, ‘আমাদের ছবির বাজার ভালো না বলে এবং ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি বলে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।’ তবে যেভাবেই হোক রাইমা সেন এলেন। কর্পোরেট অনুষ্ঠানের ফাঁকেই আয়োজকদের সহযোগিতায় কথা হলো কয়েকটি বিষয়ে। তারই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো বিনোদন প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য। গতকাল একটি কনভেশন হলে একটি প্রসাধনী সামগ্রীর মডেল হিসেবে রাইমা সেন হঠাত্ করেই এলেন ঢাকা শহরে। শহরে যেন হঠাত্ পরী নামল। সেই আকস্মিকতায় দেখা হলো রাইমা সেনের সাথে। এসেই বললেন তাকে ‘যুদ্ধশিশু’ ছবির ক্যাম্পেইনে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জানালে অবশ্যই তিনি আসতেন। এরপর মডেল হিসেবে রাইমা এলেও কথা হলো বিভিন্ন প্রসঙ্গে। সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়লেন একের পর এক। ‘যুদ্ধশিশু’ ছবি প্রসঙ্গে রাইমা সেন বললেন, ‘এ ধরনের ছবি আরও করতে চাই। যৌথ প্রযোজনার ছবি আরও করতে চাই। কারণ এতে আমাদের বাংলা ছবির একটা বড় বাজার তৈরি হয়। আমার মনে হয়, এতে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হবেন।’ এদেশে প্রযোজনায় ছবি করতে কি তবে আপনার আপত্তি রয়েছে? না, আপত্তি থাকবে কেন? ভালো গল্প হলে অবশ্যই করতে চাই। তবে সেটা যৌথভাবে দুই দেশে প্রদর্শিত হলে আরও ভালো। আপনার মা মুনমুন সেন তো এখন লোকসভার নির্বাচিত প্রতিনিধি। আপনি সক্রিয় রাজনীতিতে কবে আসবেন? মায়ের সাথে একরকম আমি ও রিয়া রাজনীতিতে সক্রিয়ই ছিলাম। আমাদের সবার অনুরোধ এলাকাবাসী রেখেছেন। মাকেই এখন সাপোর্ট দিচ্ছি। আমার বিষয়টা সময় আর পরিস্থিতি বলে দেবে। মমতা দি’র অনুরোধেই মা রাজি হয়েছেন। আমার সময়টায় এমন নাও থাকতে পারে। যৌথ প্রযোজনায় এখানে তো ‘সদরঘাট’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে আপনারও অভিনয় করার কথা। ছবিটার কোনো আপডেট আপনার কাছে আছে? হ্যাঁ ছবিটা করার কথা ছিল। তবে সে সময় আপনাদের এখানে অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার কারণে শুটিংয়ের তারিখ পেছানো হয়। হয়তো আবারও শুরু হবে। তবে নতুন কোনো শিডিউল হয়নি আমার সাথে। এ ছবিতে বাংলাদেশ থেকেও অনেকে অভিনয় করছেন। পাবনায় আপনার দিদা’র ভিটা। সেখানে যেতে ইচ্ছে করে না? সে তো করেই। ৫-৬ বছর আগে বাংলাদেশে এসেছিলাম। এবারে শুনলাম, সেটা দখলমুক্ত করে, জাদুঘর করার উদ্যোগ নিয়েছে। হয়তো এই কাজেই আবার খুব শিগগিরই আসব। সুচিত্রা সেন, আপনার ছবিগুলো কি নিয়মিত দেখতেন? কী ধরনের মন্তব্য ছিল? দেখতেন তো অবশ্যই। আমিও ভয়ে ভয়ে দেখাতাম। আমাকে ডাকতেন ‘ডলু’ বলে। ভয় পেতাম, কারণ কোনো এক্সপ্রেশন মিস হলেও বকা দিতেন। তবে ঋতুপর্ণের ছবিগুলো দিদা খুব পছন্দ করতেন। এখানে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ছবিতে আপনার কাজের কথা শোনা গিয়েছে। আরও ক’জন নির্মাতা আপনার কথা বলেছেন... না... কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি। হ্যাঁ। এদেশের নির্মাতা আমার বাড়িতে গিয়েছেন। হয়তো কথা হয়েছে। কিন্তু কোনোকিছুই চূড়ান্ত হয়নি। অল্প সময়ের সফরে রাইমা সেনের নিজেও খুব একটা স্বচ্ছন্দ নন। রাইমা বললেন, ‘আমি চলচ্চিত্রের জন্য আসতে চাই। এদেশের চলচ্চিত্রের মানুষদের সাথে আড্ডা দিতে চাই। মডেলিং করছি। হয়তো ভালো প্রোডাক্ট, ভালো কনসেপ্ট পেলে আরও করব। কিন্তু এদেশের চলচ্চিত্রের কাজে আসতে চাই। কারণ দুই বাংলা মিলে আমরা চাইলে অনেক বড় কিছু করতে পারি।