আর্জেন্টিনা জিতলেও গোল বঞ্চিত মেসি

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৯
আর্জেন্টিনা জিতলেও গোল বঞ্চিত থাকলেন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। অথচ ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথম গোলের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন তিনি। তবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়টিতে মেসি প্রথমার্ধে কয়েকটি ভাল সুযোগ নষ্ট করেন। তাছাড়া দফায় দফায় তাকে ফাউল করা হয়। তারপরও মেসির নেয়ার একটি ফ্রি কিক বিপক্ষের পোস্টে লেগে ফিরে এলে তা থেকে মিডফিল্ডার জাভিয়ের ম্যাশেরানো টোকা মেরে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এর আগে ইনজুরির কারণে গঞ্জালো হিগুয়েন মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর বদলি হিসেবে নামা রড্রিগো প্যালাসিও হেডে আর্জেন্টিনার হয়ে বিরতির ঠিক আগে প্রথম গোলটি করেন। বুয়েন্স আয়ার্সে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ম্যাক্সি রড্রিগোয়েজ ৬৪ মিনিটে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন। মেসি বার্সেলোনার হয়ে সবসময় গোল করলেও আর্জেন্টিনার হয়ে সে নৈপুণ্য দেখাতে পারেন না বলে সবসময় সমালোচিত। দুটি বিশ্বকাপ খেলা মেসির চূড়ান্ত পর্বে কেবল একটি গোল করেছেন। তাও এ গোলটি আসে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে দলের ৬-০ ব্যবধানের জয়ে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আরো পাঁচ ম্যাচ খেললেও গোল পাননি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম এই সুপারস্টার। সঙ্গত কারণেই ধারণা করা হচ্ছে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের প্রাক্কালেই গোল দিতে শুরু করবেন মেসি। ব্যক্তিগত এসব প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে মেসি অবশ্য খেলা শেষে দলকে প্রাধান্য দিয়েই কথা বলেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা দাপটের সাথেই শেষ করেছি। ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো ছিল এমন একটা প্রতিপক্ষ যারা শেষদিকে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল যেমনটা করবে বিশ্বকাপে আমাদের গ্রুপের দলগুলো। আর্জেন্টাইনরা এবার ব্রাজিলে যাচ্ছে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু এদিনের খেলায় দলটি প্রথমার্ধে বেশ ক’টি ভাল সুযোগ বিসর্জন দেয়। এজেকুয়েল লাভেজ্জির সুযোগটি ছিল সবচেয়ে সহজ। সের্জিও অ্যাগুয়েরোর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের ইনজুরির সময়ে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার হেডে খেলার বন্ধ্যাত্ব ঘোচান প্যালাসিও। মূলত মেসিকে গোলবঞ্চিত রাখতে ত্রিনিদাদ ডিফেন্ডারদের করা কর্নার থেকেই গোলটির উত্স মেলে। কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার লক্ষ্য ছিল তার কোন খেলোয়াড় যেন ইনজুরিতে না পড়েন। সে জন্য বিরতির সময়ে তিনি ডিফেন্ডার মার্টিন ডেমিচেলিসকে তুলে নেন। ডেমিচিলিস তার আগে বিপক্ষের এক স্ট্রাইকারের সাথে সংঘর্ষে হাঁটুতে ব্যথা পান। প্যালাসিওকে নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল আর্জেন্টাইন কোচের। গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ায় তাকে খেলা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে তুলে নিতে হয়েছিল। দু’দলের মধ্যকার খেলাটি শুরুর প্রাক্কালে ত্রিনিদাদের আতাউল্লা গুয়েরা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসিকে সামনে ঝুঁকে অভিবাদন জানান। আগামী শনিবার বিশ্বকাপ পূর্ব শেষ খেলায় আর্জেন্টিনা লা প্লাটায় স্লোভেনিয়ার মুখোমুখি হবে। এরপর ব্রাজিল যাবে দলটি, ‘এফ’ গ্রুপে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলার জন্য।