সারাদেশে ৫২ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি

তুলা উত্পাদন হবে ২ লাখ ৪ হাজার বেল

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ১৯:৫৯
চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৫২ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি নিয়েছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৯২৮ বেল। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে তুলার চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে তুলার বার্ষিক চাহিদা ৪২ লাখ বেল। গতবছর (২০১২-১৩) দেশে দেড় লাখ বেল তুলা উত্পাদন হয়। যা চাহিদার মাত্র সাড়ে ৩ ভাগ। এদিকে তুলা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ১৪৯ উপজেলায় বিশেষ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, চলতি চাষ মৌসুমে যশোর জোনে ৪ হাজার হেক্টরে সমভূমির তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৮৮৬ বেল। ঝিনাইদহ জোনে ৫ হাজার ২শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ২৮ হাজার ৪৫১ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। রাজশাহী জোনে ৩ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৪ বেল। কুষ্টিয়া জোনে ৫ হাজার ২শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ২৮ হাজার ৪৫১ বেল তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বগুড়া জোনে ২২শ’ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭ বেল। চুয়াডাঙ্গা জোনে ৫ হাজার ২শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ২৮ হাজার ৪৫১ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। রংপুর জোনে ৩ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৪ বেল। ঠাকুরগাঁ জোনে ১৮শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ৯ হাজার ৮৪৯ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জোনে ২২শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ১২ হাজার ৩৭ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা জোনে ১৮শ’ হেক্টরে তুলা চাষ করে ৯ হাজার ৮৪৯ বেল তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ৯শ’ হেক্টরে সমভূমির তুলা চাষ করে ৪ হাজার ৯২৩ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ২০ হাজার ১২৫ হেক্টরে পাহাড়ি জাতের তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পাহাড়ি তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৬ হাজার ১৬৩ বেল। এককালে দেশে কার্পাস তুলার চাষ হতো। ঢাকার আশেপাশে এ তুলা চাষ হতো। বিখ্যাত ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো এ তুলা থেকে। ইংরেজ আমলে বৈরী পরিস্থিতির কারণে তুলা চাষ উঠে যায়। দেশ স্বাধীনের পর বস্ত্রের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তুলা চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। ১৯৭৬-৭৭ সালে ৩ হাজার একরে তুলা চাষ করে নতুন যাত্রা শুরু হয়। এরপর চাষিরা তুলা চাষে আগ্রহী হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে। বিগত শতকের ’৮০-র দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তুলা চাষ বাড়তে থাকে। তুলা একটি নতুন অর্থকরী ফসলের রূপ পায়। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর জেলায় বড় বড় ব্লকে তুলা চাষ শুরু হয়। তারপর ফের তুলা চাষে ভাটা পড়ে। ’৯০-র দশকের শেষদিকে আবার তুলা চাষ বৃদ্ধি পায়। ২০০২ সালের পর ফের ভাটা পড়ে। বিগত কয়েক বছর ধরে চাষিরা ফের তুলা চাষে ঝুঁকেছে। গত মৌসুমে চাষি তুলার ভাল দাম পায়। প্রতিমণ বীজ তুলা ২৫শ’ ২০ টাকা দরে বিক্রি করে। এতে তাদের লাভ হয়। এ বছর চাষি আরো বেশি তুলা চাষে ঝুঁকবে বলে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন। হাইব্রিড তুলার চাষ প্রসারের মাধ্যমে কম জমিতে অধিক উত্পাদন হবে।