কাঁধের ব্যথায় ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২০:০৪
কাঁধ আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমানে কাঁধে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন কারণে কাঁধে ব্যথা হয়ে থাকে। কি কারণে কাঁধে ব্যথা হচ্ছে তার সঠিক কারণ ও রোগ নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কারণ জানা থাকলে রোগীকে সঠিকভাবে চিকিত্সা দেয়া সহজ হয়। কাঁধে ব্যথার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো। ১. ফোজেন সোল্ডার অথ্যাত্ কাঁধের জয়েন্ট বা সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া বা মুভমেন্ট কমে যাওয়া। ২. মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া। ৩. সোল্ডার ডিসলোকেশন বা কাঁধের হাড় সরে যাওয়ার কারণে ব্যথা হয়। ৪. টেন্ডিনাইটিস, বার্সাইটিস ও রোটেটর কাফ মাসেল কোন জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হলে। ৫. কাঁধে আঘাত প্রাপ্ত হলে ব্যথা হতে পারে। ৬. ঘাড়ে ব্যথা যেমন-সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলসিস হলে ব্যথা হয়। ৭. হাড় ক্ষয় জনিত রোগের কারণে কাঁধে ব্যথা হতে পারে। ৮. হার্ট এ্যাটাক বা স্ট্রোক করলে। ৯. স্নায়ুর চাপজনিত কারণে। ১০. রেডিকুলো প্যাথি। ১১. জয়েন্ট লুস বা ইনস্ট্যাবিলিটির কারণেও ব্যথা হতে পারে। ১২. বাতের ব্যথা বা অস্টিওআর্থাইটিস হলে। ১৩. স্পোর্টস ইনজুরি হলে। ১৪. মাসপেশী ছিড়ে গেলে বা মচকালে কাধে ব্যথা হয়। ১৫. ডায়াবেটিসের কারণে। ১৬. ঘাড়ে ও মাথায় ক্যান্সার হলে। ১৭. হাড় ভেঙ্গে বা ফেটে গেলে। ১৮. বাইসেপ্স টেনডন ছিড়ে গেলে। ১৯. ব্যাকিয়াল প্লেক্সজাস ইনজুরি হলে ২০. হাড়ে টিউমার হলে কাঁধে ব্যথা হতে পারে। কাঁধের ব্যথার লক্ষণ সমূহ কাঁধে ব্যথা অনুভব করা, এবং ব্যথা হাতের উপরিভাগে হওয়া। জয়েন্ট ও হাত ফুলে যাওয়া। জয়েন্টে লালচে ভাব ও গরম অনুভুতি হওয়া। কোন কিছু তুলতে বা বহন করতে না পারা। রাতে ও বিশ্রামের সময় হাতে বেশি ব্যথা অনুভব করা বা বেড়ে যাওয়া। কাঁধের মাংসপেশী সংকোচন হয়ে যাওয়া। হাত ও কাঁধের মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া। হাত উপরে তুলতে ও পিছনে নিতে না পারা। উপর থেকে কোন জিনিসপত্র নামাতে অসুবিধা হওয়া। মাথা আচড়াতে ও জামার পেছনের বোতাম লাগাতে সমস্যা। হাত ঝিন ঝিন ও অবশ হয়ে যাওয়া ঘুমের সমস্যা হওয়া। দৈনন্দিন কাজ-কর্ম, বিশেষ করে কম্পিউটার চালাতে অসুবিধা হওয়া। পরামর্শ ও চিকিত্সা যেহেতু সঠিক চিকিত্সা রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়ের উপর নির্ভর করে। তাই কাঁধে ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে রোগীকে যথেষ্ট চিকিত্সা নেয়া উচিত। ফিজিওথেরাপি কাঁধের ব্যথার জন্য খুবই কার্যকরী চিকিত্সা। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে কাঁধে ব্যথা কমানো ও সন্ধির বা জয়েন্টের কার্যক্রম ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পরিশেষে বলা যায় যে রোগীর পরিমিত বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম ও অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা ফিজিওথেরাপি নিয়ে কাঁধের ব্যথা নিরাময় করা সম্ভব। ডা:সুস্মিতা ঘোষ (পিটি) পেইন এন্ড ফিজিওথেরাপি স্পেশালিস্ট পেইন এন্ড ফিজিও সেন্টার (যমুনা ব্যাংকের উপরে) বাড়ি ১৭/১, রোড ৬, ধানমন্ডি, ঢাকা