কঠিন বাস্তবতায় বড় লক্ষ্য

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২১:০০
আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ জানিয়েছে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিস্থিতির বাস্তবতায় মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব নয়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে আটকে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও উত্তরণের উপায় ঠিক না করে পর পর চারবার ৭ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ফলে বছরশেষে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পর্যালোচনা জানানো হয়। বলা হয়েছে, ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য দেশীয় উত্স থেকে ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে। যার মধ্যে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সরকারের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপি’র ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশে উপনীত করতে হবে অথবা বিনিয়োগের উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে উভয়টিই প্রায় অসম্ভব। এর প্রধান কারণ অবকাঠামো ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনও প্রশ্নের মুখে। উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, সামাজিক খাতে বাজেট বরাদ্দ সাম্প্রতিক সময়ে কমে যাচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে দ্রারিদ্র্য দূরীকরণের হার কমে যাচ্ছে এবং যুব ও শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। কারণ ইতিমধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জিত সংগ্রহের মধ্যে ১১ হাজার ৯০ কোটি টাকার পার্থক্য রয়েছে। এদিকে সরকারি অনুন্নয়ন ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট বাজেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ব্যয় করা হবে বেতন, সুদ প্রদান এবং ভর্তুকি বাবদ। এই তিনটি খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৮২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ৩৩ শতাংশ। এদিকে রেমিটেন্স প্রবাহকে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। রেমিটেন্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধির মন্থরগতি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যয় নির্বাহের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।