নদী সঙ্কট উত্তরণে চাই জনগণের ঐক্য

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৪, ২১:৫৮
নদী সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও আন্দোলন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দেশের রাজনীতিবিদদের নদী ও প্রকৃতি প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনার আয়োজন করে জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন বাস্তবায়ন আন্দোলন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জল ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ব্যারিস্টার আবু রায়হান, এম খালিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এডভোকেট হাসানাত কাইউম। বক্তারা বলেন, আমাদের নদী নেটওয়ার্ক আজ অভ্যন্তরীণ কারণ ছাড়াও ভারত, চীন ও মিয়ানমারের ড্যাম, ব্যারেজ ও সেচ প্রকল্পের কারণে পানিশূন্য হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি। উজানের দেশগুলো গঙ্গার উপর ফারাক্কা, তিস্তার উপর গজলডোবাসহ অসংখ্য অবরোধমূলক অবকাঠামো অপসারণ করছে না। বক্তারা আরো বলেন, জাতিসংঘ গৃহীত আন্তর্জাতিক প্রাণি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭ সমপ্রতি ৩৫টি সদস্য রাষ্ট্রের অনুসমর্থনের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইনটিতে ভাটি ও উজান সকল দেশের নদীর উপর অধিকার, পানির ন্যায্য হিস্যা, নদীর দখল-দূষণ-কাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, নদী উন্নয়ন, নদী নিয়ে অববাহিকার দেশসমূহের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসাসহ সকল নদী সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। তাই ভারত-চীন-মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের অমীমাংসিত সকল নদী ভিত্তিক বিবাদ বা মতভেদ নিরসনে এই আইনটি আমাদের সংকট সমাধানের সহায়ক হতে পারে। অথচ বাংলাদেশ বা ভারত কেউই এটিতে অনুসমর্থন প্রদান করেনি। সভায় অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭ সনদে অনুস্বাক্ষর ও আলোচনার মাধ্যমে ভারতকেও তাতে অনুস্বাক্ষর করাতে রাজি করানো এবং একটি আঞ্চলিক সমন্বিত নদী ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, বৃহত্ দেশ হিসাবে ভারত, চীন বা মিয়ানমারের নদী বিষয়ক অন্যায্য অবস্থানের সামনে আমাদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ জনগণ এবং জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭-এর সমন্বিত প্রয়োগ সংকট সমাধানের উত্তম সমাধান হতে পারে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন বাস্তবায়ন আন্দোলন হচ্ছে এদেশের পরিবেশ ও নদী-জলাধার কার্যক্রম বিষয়ক একটি ফোরাম। এর অন্যতম সদস্য হচ্ছে হাওর অঞ্চলবাসী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), জল পরিবেশ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, তিস্তা নদী বাঁচাও আন্দোলন, জল-জলা-কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা প্রচার উপ-পরিষদ, রিভারাইন পিপল, তুরাগ বাঁচাও আন্দোলন ও বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ।