অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের প্রধান শক্তির জায়গা স্পিন; মূলত বাঁহাতি স্পিন। ফলে পেসাররা এখানে কখনোই আনুকূল্য পান না। কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। সেখানকার বাউন্সি উইকেট পেসারদের পক্ষেই কথা বলবে। সেটা মাথায় রেখেই হিথ স্ট্রিককে ৪৫০ দিনের জন্য কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
জাতীয় দলের তারকা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করেন, পেসারদের জন্য এই বিশেষ কোচের পাশাপাশি তাদের দিকে নজর দেয়াটা জাতীয় দলের ভালো ফলাফলের জন্যই জরুরি।
১৫ জুন থেকে ভারতের বিপক্ষে দিবা-রাত্রির হোম সিরিজ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ। পেসারদের দলে ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে গতকাল মিরপুর শেরে বাংলায় অনুশীলন শেষে মাশরাফি বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভাল দিক। বাংলাদেশে স্পিনারদের সব সময় ভালো সমর্থন দেয়া হয়। এবার পেস বোলাররা অনেকে আসছে। সামনে যে বিশ্বকাপ আছে সেখানে বাউন্সি উইকেট থাকবে। এখন থেকে পেসারদের একটু সমর্থন দেয়া দরকার। অস্ট্রেলিয়ায় ভাল পারফরম্যান্স করতে হলে অবশ্যই পেসারদের ভাল পারফর্ম করতে হবে। সেখানে পেসারদের রোলটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। এখন থেকে যদি আমরা ভাল পেস বোলার তৈরি করতে পারি তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ দলের জন্য ভাল হবে।’
জাতীয় দলের সদ্য নিযুক্ত বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তখন সম্ভবত অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার অধিনায়ক এবং হিথ সহ-অধিনায়ক ছিল। এখন হিথ কোচ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন। সে জিম্বাবুয়ের বেস্ট দলে খেলেছে। অনেক টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। আশা করছি ওর অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। সামনের ম্যাচগুলো সে দেখবে, তারপর হয়তো সে একটা পরিকল্পনা করবে। ও খুব ইতিবাচক মানুষ। আশা করি ওর সাথে অভিজ্ঞতাটা অনেক ভাল যাবে। ওর কাছ থেকে ত্বরিত ফল পাওয়া যাবে না। ভালো ফলের জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে দ্বিতীয় সারির দল গঠন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার বলেন, ‘আমার কাছে এটাকে দ্বিতীয় সারির দল কখনই মনে হয় না। ওদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অনেক শক্তিশালী। তাছাড়া আইপিএলের ফাইনাল কিন্তু অনেক চাপের ম্যাচ, সেখানে ঋদ্ধিমান সাহার মতো ক্রিকেটাররাও ভাল খেলছেন। এছাড়া মনিশ পান্ডের মতো এরকম অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা ভারতীয় দলে সুযোগ পায় না। কারণ তাদের অনেক তারকা ক্রিকেটার আছে। তারকাদের ভিড়ে তরুণরা জাতীয় দলে সুযোগ পায় না। এই সিরিজটা ঋদ্ধিমান-মনিশ পান্ডের জন্য ভাল সুযোগ। আমরা শেষ ৬টা মাস খুব খারাপ খেলেছি। একটা সুযোগ এসেছে আমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার। ভারতের প্রধান টিম আসলে যে চ্যালেঞ্জ থাকতো এখনও তাই।’
