আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ প্রস্তুতি আরো গতি পেল দিয়েগো ম্যারাডোনা উত্তর দলটির সবচাইতে বড় তারকা লিওনেল মেসি গোলে ফেরায়। গত শনিবার বুয়েন্স আয়ার্সের মাঠে স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে দলটির ২-০ গোলের জয়ে জ্বলে ওঠেন মেসি। রিকার্ডো আলভারেজের নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটির সুবাদে দলকে এগিয়ে দেয়ার পর মেসিও এ তালিকায় যোগ হন।
মেসির এটি হলো নিজের দেশের মাটিতে ২০১৪ সালের প্রথম গোল। জাতীয় দলের পক্ষে ৩৮তম। জাতীয় দলের হয়ে সবার উপরে আছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। মেসি আছেন তার পরেই। তবে তিনি গেল সেপ্টেম্বরে প্যারাগুয়ের অ্যাসানচিয়নে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ৫-২ ব্যবধানের জয়টির পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে আবার গোলের দেখা পেলেন।
সন্দেহ নেই যে, গোলটি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে উজ্জীবিত করবে। বিশেষ করে যখন বার্সেলোনা তারকাটি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দেশে। শুধু তাই নয় ম্যারাডোনার পর আরেকটি সাফল্যের জন্য দেশবাসীও তার দিকেই তাকিয়ে।
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলাটিতে মূলত দ্বিতীয় সারির দল নামায়। যদিও তাদের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মেসি, সের্জিও অ্যাগুয়েরো ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আসেন।
আলভারেজ প্রথমার্ধে পেনাল্টি বক্সের উপর থেকে শট নিয়ে গোলটি করেন। এরপর ৬৭ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন মেসি। ডি মারিয়ার কাছ থেকে একটি পাস পেয়ে অ্যাগুয়েরো তা বাড়িয়ে দিলে মেসি ঠাণ্ডা মাথায় তা জালে জড়িয়ে দেন। আজ সোমবার ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পর ১৫ জুন বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম খেলায় বসনিয়া হার্জেগোবিনার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপের অপর দুই দল হলো ইরান ও নাইজেরিয়া।
কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা এদিন তার তারকাদের শুরুতে বসিয়ে রাখলেও সেটা কোনো সমস্যা ছিল না। কেননা স্লোভেনিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারেনি এবং শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনার সমকক্ষও ছিল না। বিরতির আগে বেলেচ দু’দফায় ম্যাক্সি রড্রিগোয়েজের দুটি প্রয়াস ভেস্তে না দিলে সফরকারীরা প্রথমার্ধেই বড় রকমের ঘাটতিতে পড়ে যেত।
স্লোভেনিয়ার সেরা সুযোগ পায় বিরতির পর। কিন্তু মিলিভোয়ে নোভাকোভিচের শটটি চলে যায় সরাসরি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সের্জিও রোমেরোর হাতে। এরপর তারা স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে আর কোনো বড় আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। বরং মেসির একটি ফ্রিকিক অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে না গেলে ব্যবধানটি ৩-০ হতে পারতো।
আর্জেন্টাইনরা এর আগের প্রস্তুতি ম্যাচটিতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতেছিল। সে ম্যাচে গোলবঞ্চিত ছিলেন মেসি।
