জুটি-পঞ্চক

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৪, ২০:৪০
একে একে ব্রাজিলে পা রেখে ফেলেছেন ৭৩৬ জন বিশ্বসেরা ফুটবলার। কী ভাবছেন, এরা একাই আসছেন? দু’-একজন কোচ যতই নিষেধ করুন, গ্যালারিতে এদের প্রায় সবার বান্ধবীই থাকবেন প্রেমিক বা স্বামীর জয় দেখার জন্য। এই প্রায় সাড়ে সাতশ’ জুটির প্রত্যেকেরই নিশ্চয়ই অনন্য গল্প আছে। প্রত্যেকের দিকেই আমরা চোখ রাখতে পারি। তার মধ্যেও বেছে পাঁচটি জুটির কথা জানিয়ে দিলাম আমরা। এদের ওপর চোখ না রেখে আপনার উপায় নেই— মেসি-রোকুজ্জো ব্যক্তিজীবনে আন্তোনিলা রোকুজ্জো মতো দুনিয়া কাঁপানো কেউ নন। তবে সেই বছর পাঁচেক বয়স থেকে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় ফুটবলারটির বুক কাঁপাচ্ছেন নিয়মিত। মেসির খুব কাছের এক বন্ধুর এই বোনের সঙ্গে তার সখ্যতা নিতান্তই শিশুকাল থেকে। ২০০৮ সালে এসে পরস্পরের প্রতি প্রেমটা বুঝতে পারেন এবং নিজেরা প্রেমে সমর্পিত হন। কিন্তু ২০১০-এর আগে অবধি খুব চেপে রেখেছিলেন। তাতে খুব কাজ হয়নি। দুনিয়া জেনেছে। এখন তো রোকুজ্জোর কোল জুড়ে মেসির সন্তান থিয়াগোর জন্মও হয়ে গেছে। শুধু বিয়েটার অপেক্ষা। সেটা কি বিশ্বকাপের পরই? শাকিরা-পিকে শাকিরার পরিচয় সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। বার্সেলোনা ও স্পেনের তারকা জেরার্ড পিকের সঙ্গে পরিচয়ের বহু আগেই ‘হোয়েনেভার, হোয়ারেভার’ করে দুনিয়া মাতিয়েছেন। ফোর্বসের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় আছেন। তবে ফুটবলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন পিকের প্রেমে পড়ে। বার্সেলোনা ও স্পেনের ‘টুয়েলফথ ম্যান’ বলা হয় তাকে। গত বিশ্বকাপে বার্সা তারকাদের ভিডিওতে রেখে গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আজও কাঁপাচ্ছে অনেককে। আশা করা যায়, এবারও গ্যালারি কাঁপাতে কসুর করবেন না। ব্রুনা-নেইমার একেবারে কিশোর প্রেমের খাঁটি দৃষ্টান্ত—এই মেঘ, এই বৃষ্টি। খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে মুখ দেখাদেখি বন্ধ, পরক্ষণেই আবার গলায় গলায় ভাব। ব্রাজিলিয়ান টেলিভিশন তারকা ব্রুনা মারকুইজিনির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কটা কম দিনের নয়। সম্পর্ক যখন ভালো থাকে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে দুনিয়া জেনে যায়; নানা ধরনের ছবি দেখে। আবার পরক্ষণেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সম্প্রতি শোনা গেল, আর দুজনের সম্পর্ক জোড়া লাগার নয়। কীসের কী! এই তো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অনুশীলন ক্যাম্পে গাড়ি নিয়ে হাজির ব্রুনা। মেসি আবার দুষ্টুমি করে তার হ্যাট চুরি করে ফটোও তুলে নিলেন, স্কলারির একটু ধমকও খেলেন। বোঝা গেল, বিশ্বকাপেও থাকছে এই দুষ্টু-মিষ্টি প্রেম। রুবিও-রামোস পিলার রুবিও স্পেনে খুব পরিচিত মুখ। মূলত টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দেশটির নামকরা মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের একজন তিনি। রামোসের মতো অন্তর্মুখী ও নম্র স্বভাবের মানুষ। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খুব হই-চই পছন্দ করেন না। তবে তার অনুষ্ঠানে এসে একবার স্প্যানিশ ডিফেন্ডার গিটার বাজিয়ে হই-চইটা কম তৈরি করেননি। রামোস অবশ্য খুবই পত্নীভক্ত মানুষ। প্রায়শ রুবিওর শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে মার্কেটে দেখা যায় তাকে! দূর্ভাগ্য এই যে, নবজাতক সন্তানকে সময় দিতে রুবিও হয়তো স্পেনের সব ম্যাচে গ্যালারিতে থাকতে পারবেন না। শায়ক-রোনালদো সম্ভবত এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিখ্যাত ‘বান্ধবী’ রুশ সুপারমডেল ইরিনা শায়ক। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণী ইতিমধ্যে হাঙ্গেরির একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী নারী নির্বাচিত হয়েছেন। প্রসূতিসেবা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেও নামডাক করে ফেলেছেন। ২০১০ সালে বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার পরিচয়। এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানেও দুজনকে দেখা গেছে একসাথে। গ্যালারিতে পর্তুগালের সমর্থনে এই রুশ সুন্দরীকে দেখা যাওয়াটা নিশ্চিতই।