শৈল্পিক ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। নান্দনিক ফুটবলের প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হতে প্রস্তুত বিশ্ববাসী। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মুখিয়ে থাকবে তার প্রিয় দেশের জয়ের প্রতীক্ষায়। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রিয় দেশের জার্সি আর পতাকা গায়ে জড়ানোর আগ্রহ অনেক দর্শকের। একে কেন্দ্র করে অনেক দেশে বেড়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিশ্বকাপে না খেললেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যে ভালোই আয় করছে বাংলাদেশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য জার্সি রপ্তানিকে ঘিরে। বিভিন্ন দেশের জার্সি রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডলার আয় করছে। এছাড়া পতাকা, ক্যাপ, পুলওভার এবং জুতাও রয়েছে রপ্তানির তালিকায়। বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১০০টি কারখানা জার্সি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনসহ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের ফ্যানদের জন্য জার্সি তৈরি করে রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানি আয়ের বাইরে দেশেও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর ও নগরে উড়ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। যুবক-যুবতীদের গায়ে উঠছে হলুদ, লাল আর আকাশি রংয়ের জার্সি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও এখানকার মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আর একে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশেও কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠানের। দেশব্যাপী চাহিদা মেটাতে ছোট ছোট গার্মেন্টসগুলোতে বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা বানানোর ধুম পড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে জার্সি ও পতাকা তৈরিকে কেন্দ্র করে। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের তানিয়া ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ কয়েকটি দেশের পতাকার এতো চাহিদা তৈরি হয়েছে যে তা পূরণ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। তবে এসব মৌসুমী ব্যবসায় ভালোই মুনাফা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ফুটবল খেলার প্রবণতা বেড়েছে। এতে ফুটবল ও ফুটবল সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। ফলে এসব ক্ষেত্রেও ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বেড়েছে।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি উপভোগ করবেন ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এদিকে খেলা দেখার জন্য বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষের মধ্যে টেলিভিশন কেনার আগ্রহ বেড়েছে। যাদের বাসায় টিভি নেই, কিংবা টিভি পুরনো হয়ে গেছে- তারা ছুটছেন টেলিভিশনের দোকানে। ফুটবল উত্সবে টেলিভিশনের বাড়তি চাহিদা সামলাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে টিভি উত্পাদনকরী ও বিক্রেতারা। উত্পাদন বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ। স্বাভাবিকের চেয়ে মজুদ বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা অফারও দেয়া হয়েছে। গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, টিভি ক্রেতারা দোকানে ভীড় করছেন। ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল বাশার মজুমদার বাবুল বলেন, প্রতিবার বিশ্বকাপের আগেই টেলিভিশন বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এবারও টেলিভিশন বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। অন্য সময়ের তুলনায় এখন টেলিভিশন বিক্রি বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।
