নারী ফুটবলারদের বিশ্বকাপ ভাবনা

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৪, ২০:৪১
বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। সেটা ক্রিকেট বা ফুটবল যাই হোক না কেন। তবে ফুটবল বিশ্বের একনম্বর খেলা বলে এটি নিয়ে উন্মাদনার বেশি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ফুটবলের ভক্ত। ব্রাজিলে বিশ্বকাপ হলেও তার উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বকাপের কাউন্ট-ডাউন শুরুর পর থেকেই এদেশের মানুষের মধ্যে আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সমর্থকরা বাড়ির আঙ্গিনায় পছন্দের দলের পতাকা টানিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছেন। পতাকার দৈর্ঘ্য নিয়েও চলছে প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপকে ঘিরে চারদিকে এখন তুমুল উত্তেজনা। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্যদেরও আলোড়িত করছে এই বিশ্বকাপ। কেউ সমর্থন করছেন ব্রাজিলকে। কেউবা আবার আর্জেন্টিনার সমর্থক। পছন্দের কারণ নিয়েও আছে নানান ব্যাখ্যা। পাঠকদের তাই খেলোয়াড়দের জবানিতেই তুলে ধরা হলো তাদের কয়েকজনের চিন্তাভাবনা। সাবিনা খাতুন সহ-অধিনায়ক টিভিতে ফুটবল খেলা দেখি। বিশ্বকাপ এলে তো কোন কথাই নেই। রাত জেগে খেলা উপভোগ করি। আশা করছি এবারের বিশ্বকাপও দেখতে পারবো। এমনিতেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। যদি বলেন কেন ওদের সাপোর্ট করি। তাহলে বলবো, ওরা ভালো খেলে, ওদের খেলার আর্ট খুব সুন্দর। আর্জেন্টিনায় মেসির মতো তারকা খেলে। ওদের টিম কম্বিনেশন ভালো। পর্তুগালের খেলাও ভালো লাগে। ফুটবল বিশ্বের নাম্বার ওয়ান খেলা। বিশ্বকাপ এলে সেটার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। এবারের বিশ্বকাপ হচ্ছে সুদূর ব্রাজিলে। অথচ আমাদের দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে কি পরিমাণ উন্মাদনা হচ্ছে। সমর্থকরা বিভিন্ন দলের সাপোর্ট করে, বিভিন্ন দলের পতাকা টানানো নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা। কার পতাকা কত বড়, কে কত বড় সাপোর্টার। এটা নিয়ে আবার চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। ফুটবল নিয়ে মানুষের মধ্যে এমন উন্মাদনা দেখে আমার গর্ব বোধ হয়। এটা ভেবে যে, আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন ফুটবলার। ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি খুশি। মিরোনা ফুটবলের সব খেলাই দেখি। বিশ্বকাপ এলে খেলা দেখার পরিকল্পনা করি। আমার পছন্দের দল স্পেন। পছন্দের প্লেয়ার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এতসব দল থাকতে কেন স্পেনের সমর্থক? কারণ ওরা ভালো খেলে। গোছালো ফুটবল বলতে যা বুঝায় ওটা ওরা খেলে। খেলার সময় ওরা প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেয় না। সবসময় নিজেদের পায়ে বল আটকে রাখে। স্পেনের জাভির খেলা খুব উপভোগ করি। ওর খেলা আমর ভালো লাগে। আসলেই ও ভালো খেলোয়াড়। ভালো খেলেও। ফুটবলে ওর মেধা আছে। এক কথায় বলতে গেলে নিখুঁত ফুটবল খেলে। ওর খেলা দেখে আমি মোটিভেট হই। তবে এবার যেহেতু ব্রাজিলে খেলা হচ্ছে সেহেতু তারাই ফেভারিট। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় তারা বাড়তি সুবিধা পাবে। আশাকরি সব খেলা দেখতে পারবো। বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই ব্রাজিলে। অথচ আমাদের দেশের দর্শকদের উন্মাদনা দেখলে মনে হয় ব্রাজিলে নয়, বিশ্বকাপ যেন বাংলাদেশেই হচ্ছে। একসময় পেলে-ম্যারাডোনা ফুটবল মাতিয়েছিলো। তাদের কারণেই মানুষ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সাপোর্ট করে। এখন পেলে-ম্যারাডোনা নেই। তাদের পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের দুই তারকা মেসি-নেইমার রয়েছেন। তাদের খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বিশ্বের ফুটবলপ্রিয় মানুষরা। আমাদের দেশের মানুষ তাদের পছন্দের দলের দেশীয় পতাকা সাঁটিয়ে নিজেকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে জানান দেন। অম্রা চিং মারমা জাতীয় মহিলা দলের নিয়মিত খেলোয়াড় অম্রা চিং মারমা বলেন, আমি দল হিসেবে স্পেনের সমর্থক। ওরা ভালো ফুটবল খেলে। ওদের খেলা সবার চেয়ে আলাদা। স্পেনের ডেভিড ভিয়া- ইনিয়েস্তা ও জাভি এরা খুব গোছালো ফুটবল খেলে। এদের খেলায় আর্ট আছে। তবে পছন্দের প্লেয়ার লিওনেল মেসি। ওর খেলার জন্যই আমি ওকে পছন্দ করি। দল হিসেবে স্পেনকে সমর্থন করলেও ব্যক্তিগতভাবে মেসিকে পছন্দ করি। কারণ ও ভালো খেলে। ও আধুনিক যুগের পেলে। আমরা মুরুব্বিদের কাছ থেকে পেলে-ম্যারাডোনার নাম শুনেছি। কিন্তু ওদের খেলা দেখার সুযোগ আমার হয়নি। এখন মেসি-রোনালদো আর নেইমাররা খেলছেন। তাদের খেলা দেখে মনে হয়, পেলে-ম্যারাডোনাও ভালো মানের প্লেয়ার ছিলেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থক। বলতে পারেন পেলে ম্যারাডোনার জন্য। এখন পেলে-ম্যারাডোনা নেই। তাদের জায়গায় মেসি-নেইমারের মতো তরুণ তারকারা খেলছেন। তাদের খেলা দেখে মানুষ বিমোহিত হচ্ছে। তৃষ্ণা চাকমা বিশ্বকাপে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। লিওনেল মেসির জন্য আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করি। ছোটবেলায় তেমন ফুটবল বুঝতাম না। পাড়ার লোকজনের কারণেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে যাই। পরে দেখলাম যে আসলেই আর্জেন্টিনা ভালো ফুটবল খেলে। মেসি খুব ভালো খেলে। ওর খেলার ধরন আলাদা। আলাদা টেকনিক রয়েছে। যার কারণে ওর খেলা আমার খুব ভালো লাগে। আর্জেন্টিনা যদি কোন কারণে ফাইনালে উঠতে না পারে তাহলে চাইবো নতুন কোন দল চ্যাম্পিয়ন হোক। সবসময় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বলতে বলতে আর ভালো লাগে না। নতুন কোন দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাদের বিশ্বকাপ ক্ষুধা মিটাক। এটাই আমার প্রত্যাশা। গতবার যেমন স্পেন বিশ্বকাপ জিতে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। আমি এবারও চাইবো নতুন কোন আনকোরা দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকে দেখাক আমরাও পারি। ফুটবল বিশ্বের একনম্বর খেলা। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ এই খেলাকে পছন্দ করে বলেই এটি সেরা খেলা। অন্য সব দেশের মানুষের মতো আমাদের দেশের মানুষও বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজে থাকে। ফুটবলের রঙে রঙিন হয়ে উঠুক সবাই।