পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের পুত্র মোস্তফা কামাল (৩৫) মোবাইল ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, এখানে আমাদের উপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করা হচ্ছে তা আমাদের দেশের দিনমজুরের চেয়েও ভয়াবহ। প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর খাবার বন্ধ করে দেয় তারা। তর্ক করলে হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ১৩-১৪ ঘণ্টা একটানা কাজ করে যাচ্ছি। একই উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের দগরবাড়ি গ্রামের বাসেদ আলীর পুত্র রুবেল (২৭) তার পরিবারের সদস্যদের জানায়, আমরা মালয়েশিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারিভাবে দেয়া প্রতিশ্রুতির কোনটিই পূরণ করা হচ্ছে না। ঠিকমতো বেতনভাতা পাচ্ছি না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ৯৫০ মালয়েশিয়ান রিংগিত দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৫ মাসে আমরা বেতন পেয়েছি মাত্র ১৫০০ রিংগিত। একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের আমজুয়ানি গ্রামের শফিজুলের পুত্র জুলফিকার আলী (২৫) জানান, যে স্বপ্ন নিয়ে যে আশা নিয়ে আমরা বিদেশ পাড়ি দিয়েছি তা গুড়েবালি। এখানে এসে দেখি সবকিছু ভিন্ন। আমরা বেশি কিছু চাই না। সরকার আমাদের যা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পেলে আমরা খুশি।
মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়া থেকে শ্রমিকরা জানায়, জিটুজি লটারির মাধ্যমে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অন্যদের সাথে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ওই তিন প্রবাসী শ্রমিক কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। বাংলাদেশের শ্রম অধিদপ্তর এসব শ্রমিকদের তুলে দেন কপারাসিং নামে একটি কোম্পানির কাছে। ওই অঞ্চলে ওই কোম্পানির অধীনে প্রায় ৩৯ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। যাদের অবস্থাও একই রকম। শ্রমিকরা জানান,৭ জনের দলে বিভক্ত করে এসব শ্রমিকদের ওই কোম্পানি মালয়েশিয়ার দুর্গম বন্য অঞ্চল পাহাং জেলার লাডাং কসমায় নিয়ে যান। এই শ্রমিকদের ৭ জনের গ্রুপে অপর ৪ জনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়।
তারা জানান, এসব সমস্যা নিয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোন কাজ হয়নি।
