টিলাঘেরা সবুজ পরিবেশের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৫০ একর জায়গা নিয়ে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে দেশের চতুর্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর একাডেমিক কার্যক্রম ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের পাশাপাশি নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে কৃষি অনুষদ ও মাত্স্য বিজ্ঞান অনুষদ। বর্তমানে আরও যোগ হয়েছে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, কৃষি প্রকৌশলী ও কারিগরি অনুষদ এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি বিশেষ ডিপার্টমেন্ট রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেটের কথা চিন্তা করে ডিপার্টমেন্ট দুটি খোলা হয়েছে। এগুলো হলো- হাওর এগ্রিকালচার, কোস্টাল এন্ড মেরিন সায়েন্স। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি কিংবা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং আলাদা-আলাদা করে পড়ানো হয় অথবা এক সঙ্গেই কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়। অনুষদের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস হয়ে থাকবে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এখন পর্যন্ত কৃষি অনুষদ এবং মাত্স্য-বিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৩টি করে ৬টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। এরা সবাই এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে এবং বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া কৃষি অনুষদের তাজুল ইসলাম পলাশ বলেন, ভাবতে ভালই লাগছে এখন থেকে আমি একজন কৃষিবিদ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মধুর সম্পর্কের কারণেই আমরা সফল হয়েছি। সবুজে ঘেরা ছোট ছোট টিলা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। আয়তনে ছোট হলেও এর রূপ-সৌন্দর্য আমাদের হূদয়ে আলাদা একটা টান ও ভালোবাসা জন্মায়। ক্যাম্পাস সম্পর্কে নিজের অনুভূতি এভাবেই বলেন, ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের সাদিদ আল আমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর আড্ডা হবে না সেটা কি হয়! কেউ কেউ আবার ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দেয় আড্ডা। এর মধ্যে ফুচকা চত্বর, ট্যাংকির তলা, কাঁঠাল তলা, ক্যাফেটেরিয়া, টিলা-টালা, ইকোপার্ক ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।
