আ লা প চা রি তা 

জিয়া রহমান

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ১৯:৩৭
শিক্ষকতা করছেন বহুদিন ধরেই। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। জানাচ্ছেন— খান সাইদুর রহমান প্রিয় শিক্ষক আমার জীবনে আমি একজন দু’জন নয় অনেক ভালো ভালো শিক্ষকদের সাহচর্য পেয়েছি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ওয়াহাব স্যার। তিনি গভ: ল্যাবরেটরি স্কুলে আমাদের নীতিশাস্ত্র শেখাতেন। ক্লাসে এসেই তিনি বলতেন গত এক সপ্তাহে তোমরা কতোগুলো ভালো কাজ করেছ, কতগুলো সত্য কথা বলেছ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতেন। স্কুল পর্যায়ে যা ছিল অত্যন্ত বিরল। তারই অনুপ্রেরনায় পরবর্তীতে আমরা বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন দেয়াল লিখনও সংগ্রহ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ার সময় পেয়েছি প্রফেসর নজরুল ইসলাম স্যারকে। তিনি আমাকে হাতে ধরে থিসিস লেখা শিখিয়েছেন। স্কুল জীবনের মজার স্মৃতি আমাদের বাসা ছিল মিরপুর কিন্তু পড়তাম গভ: ল্যাবরেটরি স্কুলে। যার ফলে প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হত। বাসা থেকে টিফিন বাবদ প্রতিদিন ৫০ পয়সা করে পেতাম। যেতে আসতে খরচ হতো ২০ পয়সা। বাকি ৩০ পয়সা দিয়ে আমরা খেতাম। আমি ও আমার ভাই একসাথে যাতায়াত করতাম। মাঝে মাঝে বাস ভাড়া বাঁচানোর জন্য আমরা যুক্তি করে দোতলা বাসে উঠতাম। আমি উপরতলায় আর ও নীচতলায়। কন্ট্রাক্টর ভাড়া চাইতে এলে ও বলতো আমি দেব আর আমি বলতাম ওর কথা, এভাবে করতে করতে প্রায়ই ভাড়া না দিয়ে নেমে যেতাম। যেদিন ভাড়া দিতে না হত সেদিন ভাড়ার টাকাটা দিয়ে আমরা পুরোদমে খাওয়া-দাওয়া করতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণীয় ঘটনা আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে কানাডায়। সেখানে আমার সুপারভাইজার ছিলেন টম ল্যাংফোর্ডকে। অসম্ভব ভাল মানুষ ছিলেন। যখনই কোন কিছু ভুল করতাম বলতেন 'This is not the end of the life Zia' স্যারের এই কথাটা এখনো খুব মনে পড়ে। যখনই কোন দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাই স্যারের এই কথাটা স্মরণ করি, তার এই কথাটি আমাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ও প্রেরনা যোগায়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীরই দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা আছে। এই দায় তাদের মেটাতে হবে। আর এজন্য সবার আগে যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল নিজের মধ্যকার মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা। প্রতিটি শিক্ষার্থীরই উচিত হবে পড়াশোনার পাশাপাশি মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা। যদি তা পারে তবেই তারা সফলকাম হবে নচেত্ শুভঙ্করের ফাঁকি আজীবন থেকেই যাবে। ছবি: তানভীর