চাঁদপুরের ছেলে মেহেদী হাসান সোহাগ। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে মেডিক্যালে পড়াশোনা করে ডাক্তার হবেন। মেডিক্যালে চান্স না পাওয়ায় সেই স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। ভর্তিযুদ্ধ মোকাবিলা করে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেট্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হন সোহাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হলেন। ৪ বছরে ৮টি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দেন। ২০১০ সালে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৮২ পান সোহাগ। অনার্সে তিনি ব্যাচের মধ্যে সম্মিলিত মেধায় দ্বিতীয় হন।
২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে একই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন তিনি। সমপ্রতি মাস্টার্সের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে সিজিপিএ ৪ এ ৪ পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন সোহাগ। মাস্টার্সে একমাত্র তিনিই সিজিপিএ ৪ এ ৪ পেয়ে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। সেরাদের সেরা স্থানটি দখল করে নিলেন মেধাবী ছাত্র সোহাগ। সোহাগ ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
মেধাবী শিক্ষার্থী সোহাগের ২টি আন্তর্জাতিক জার্নালও রয়েছে। কানাডিয়ান জার্নাল অব ইনোভেটিভ মেডিসিন ও বায়োলজিতে ১টি এবং জার্নাল অব বায়ো সায়েন্স ও বায়োটেকনোলজিতে ১টি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বায়োটেকনোলজি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। আরো ২টি জার্নাল প্রকাশের অপেক্ষাধীন। জেনেট্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের তত্ত্বাবধানে মাস্টার্সে থিসিস করেছেন। প্রখর মেধার অধিকারী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারলেই জীবনটা সার্থক হবে। তিনি ভবিষ্যতে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে পিএইচডি করতে চান। সোহাগের গ্রামের বাড়ী চাঁদপুর জেলায়। বাবা মরহুম মো. নজরুল ইসলাম সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। মা নাসরিন আক্তার একজন গৃহিণী। ৩ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহাগ সবার বড়।
