২০১১ সালে ‘আমরা পারি’ নামের বইটি প্রকাশিত হয়। বইটি মান্দারিন এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হচ্ছে, বইটির ইংরেজি অনুবাদ মসির নিজের করা। ১০০ পৃষ্ঠার বইটি মসির জীবনের
এমন সব ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে ভবিষ্যত্ যুবকরা সহজেই অনুপ্রাণিত হবেন
মসি কাই কেভালিন একদিকে যেমন প্রতিভাধর, অন্যদিকে তেমনি বিনয়ী। তাঁকে কেউ প্রতিভাধর বললে তিনি খুশি হওয়ার চেয়ে লজ্জা পান বেশি। যেখানে মানুষ নিজের প্রশংসা শুনতে মুখিয়ে থাকে, মসি সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মসি বলেন, কেউ আমাকে প্রতিভাধর বললে বিরক্ত হই। মানুষের বোঝা উচিত প্রতিভাই শেষ কথা নয়। যে কেউই কঠোর পরিশ্রম করলে আমার মতো হতে পারে।
যাকে নিয়ে এতো কথা, সে করেছেটা কী? মসি মাত্র ৮ বছর বয়সে তাঁর কলেজ জীবন শেষ করেছেন! ১১ বছর বয়সে দু-দু’টি কলাবিষয়ক ডিগ্রি লাভ করেছেন! আর স্নাতক পরীক্ষায় তাঁর ফলাফল ৪-এর মধ্যে ৪!
মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই যুবকের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এখন তিনি তাঁর চেয়ে ১০ বছরের বড় সব ছাত্রের সাথে গণিতে ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য পড়াশুনা করছেন। তিনি তাঁর এই সাফল্যের পেছনে একমাত্র কঠোর পরিশ্রমের কথা স্বীকার করেন। মসি কিন্তু শুধু পড়ুয়াই নয়। তিনি একটি বইও লিখেছেন। ২০১১ সালে ‘আমরা পারি’ নামের বইটি প্রকাশিত হয়। বইটি মান্দারিন এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত। সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হচ্ছে, বইটির ইংরেজি অনুবাদ মসির নিজের করা। ১০০ পৃষ্ঠার বইটি মসির জীবনের এমন সব ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে ভবিষ্যত্ যুবকরা সহজেই অনুপ্রাণিত হবেন।
মসির পিতা-মাতা তাঁকে কখনোই পড়াশুনার জন্য চাপ দেননি। ২৪ ঘণ্টায় মসি নিজের ইচ্ছামতো জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি স্কুবা ডাইভ, মার্শাল আর্ট এবং ফুটবলও খেলেন। আর জ্যাকি চ্যানের সিনেমা হলে তো তাঁকে টিভির সামনে থেকে উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। যদিও তিনি স্বীকার করে নেন যে, তাঁর পাঠক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম সীমিত। এর প্রধান কারণ তিনি ইউসিএলএল’র গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত।
মসির ইচ্ছা গণিতের ওপর ডক্টরেট করা। তাহলে তাঁর আর কোন ইচ্ছা অপূর্ণ থাকলো? মসি যে ইচ্ছাটির কথা আগে কাউকে বলেননি সেটা হল, তিনি তাঁর ১৬ বছর বয়সের জন্য অপেক্ষা করছেন। কারণ গাড়ি চালানো তাঁর বহু দিনের শখ। ড্রাইভিং লাইসেন্সটি যে তাঁকে পেতেই হবে!
