সবুজ গড়ার লড়াই

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ১৯:৩৯
আড়াই বছর আগের কথা। আহসান রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি সে টিউশন করতো। তার এক ছাত্র ছিল ইংরেজি মাধ্যমে ৩য় শ্রেণির ছাত্র। একদিন সে তার ছাত্রকে অবসরে কি করে জিজ্ঞেস করে। ছাত্র বলে, স্যার আমি অবসরে কম্পিউটারে গেমস খেলি, টিভি দেখি। উত্তর শুনে মন খারাপ হয়ে যায় রনির। তার শেকড় জামালপুরের গ্রামীণ আবহে। সে স্কুলে পড়ার সময় অবসরে খেলাধুলা করতো। গাছ লাগাতো। এখানে তার ছাত্র টিভি আর গেমসের পেছনে সময় দিয়ে তার চিন্তা-চেতনাকে অলস হয়ে যাচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সবুজের প্রতি কিভাবে আকৃষ্ট করা যায়, সে চিন্তা তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। দিনদিন বিবর্ণ হতে যাওয়া ঢাকাকে সবুজ এবং আদর্শ নগরীতে রূপান্তরিত করতে বুয়েট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র মিলে প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষার্থীদের সংগঠন গ্রীন সেভারস। গ্রীন সেভারস স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠন। ঢাকা শহরকে বসবাসের আদর্শ শহরে রূপান্তর করাই গ্রীন সেভারসের লক্ষ্য। এজন্য তারা আগ্রহী ব্যক্তির বাসার সামনে, ভেতরে ও ছাদে প্রায় বিনা খরচে বাগান করে দেয়। বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরামর্শও দিয়ে থাকে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। গ্রীন সেভারসের কার্যক্রম সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দীপক দেবনাথ বলেন, আমরা শহরের পরিবেশ ও পরিবেশ বিপর্যয় সম্পর্কে তুলে ধরতে স্কুলসমূহে ওয়ার্কশপ এবং সেমিনার আয়োজন করে থাকি। শহরের কেউ যদি তাদের বাড়িতে গাছ লাগাতে চায়, তাহলে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা গাছ লাগিয়ে দিয়ে আসে। আবাসন কোম্পানিকে বাড়ি নির্মাণের সময় ছাদে বাগান নির্মাণের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। ঢাকা শহরে গাছের নামে যে সব এলাকা আছে, সে সব এলাকায় সে গাছ বেশি করে লাগানো। যেমন নিমতলীতে নিম গাছ লাগানে। অক্সিজেন ব্যাংক এবং কৃষিপাঠ আমাদের ব্যতিক্রমী দুটি কার্যক্রম।