মানুষ হিসেবে, কোচ হিসেবে যে পেশাদার স্বভাবের হবে, সেটা প্রথম দিনেই বুঝিয়ে দিলেন। বলে দিলেন, সময় নিয়ে তার আফসোস নেই। হাতে যেটুকু সময় আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান। আর ঝাঁপানোর ফল হিসেবে আসছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ন্যূনতম দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখতে চান চান্দিনা উপল হাতুরুসিংহে।
দারুণ স্মার্ট চেহারা নিয়ে আগের দিনই ঢাকায় চলে এসেছেন শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল, নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক এই কোচ। গতকাল বিসিবি অফিসে এসে বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ হিসেবে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। তারপরই সাংবাদিকদের বললেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সব দিকের উন্নতি করাই আমার লক্ষ্য। একই সাথে বিসিবি’র নানা উন্নতির দিকেও আমার দৃষ্টি থাকবে। আমাদের নিয়মিত সাফল্য বয়ে আনতে হবে। দু’একটি সিরিজে সফল হলেই চলবে না। আপাতত আমার লক্ষ্য, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে খেলা।’
বিশ্বকাপের এই লক্ষ্যের বাইরে লঙ্কান এই সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটারের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটা স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যাওয়া, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আমাকে দুই বছরের জন্য প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়েছে। আমার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশকে আমি এমন দল হিসেবে দেখতে চাই, যারা শুধু ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশের মাটিতেও যেন নিয়মিত ম্যাচ জিততে পারে। বাংলাদেশ দলকে যাতে বিশ্বক্রিকেটের পরাশক্তি দলগুলো সমিহ করে। এই-ই আমার প্রধানমত পরিকল্পনা।’
আইসিসি’র টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতেই পরে আছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। যার কারণে এফটিপিতে বাংলাদেশের ম্যাচ সংখ্যা বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ বাড়াতে হলে র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি একান্তই কাম্য। বাংলাদেশ দলের র্যাঙ্কিং বাড়ানো প্রসঙ্গে নতুন কোচ বলেন, ‘এটা খুবই কঠিন বিষয়। কারণ আমরা এখনো জানি না আমাদের সামনে কী আছে। আমরা যদি দলের উন্নতির জন্য, যথাযথভাবে অনুশীলন করি, দলের প্রতিটি সদস্যের উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি, তবে র?্যাঙ্কিংয়ের উন্নতির বিষয়টি নিজে থেকেই হয়ে যাবে। আমার কাজ হবে খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ পারফর্ম নিশ্চিত করা। টিমের সাথে যারা কাজ করেন, তাদেরকে সমর্থন দেয়া। তাহলেই দল খুব ভালো করবে। শ্রীলঙ্কাতে, এবং গত চার বছর অস্ট্রেলিয়াতে আমি তাই দেখেছি। আমি এর উপরই নজর দিচ্ছি।’
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে নতুন কোচ হাতুরুসিংহে বলেন, ‘আমাদের যতোটুকু শক্তি আছে, তা আরো দৃঢ় করাই হবে আমাদের কাজ। আমি দলের কারো সাথে এখনো কথা বলিনি। গত চার বছর এ দলটিকে আমি তেমন খেলতেও দেখিনি। কারণ অস্ট্রেলিয়াতে তাদের খুব একটা যাতায়াত ছিলো না। তবে ২০১০ সালের আগে শ্রীলঙ্কায় এই দলের অনেককে দেখেছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা এখন পার করছে। এখন প্রথম কাজ হলো সেরা কম্বিনেশনটা বাছাই করে নেয়া এবং নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। ওই দেশের পরিবেশে খেলাটা, উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে।’
অবশ্য বিশ্বকাপের আগে খুব বড় একটা সময় তিনি পাচ্ছেন না। তারপরও হাতুরুসিংহ বলছেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হতে বেশি সময় নেই। আমরা এখন কী করবো? সময় তো আমি কিনতে পারবো না। আমাদের কী নেই, সেদিকে তাকানোর লোক আমি না। আরো আট মাস সময় আছে, এই সময়ে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমরা।’
বাংলাদেশে কোচ আসে কোচ যায়। এনিয়ে রাজ্যের সমালোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান কোচ বলেন, ‘আমি এসবের কারণ জানি না। এখানে যে কোচেরা কাজ করে গেছেন, আমি তাদের বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি শুধু সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে, তা মোকাবেলা করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে চাই।’
