কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা অবলম্বনে মাসুদ পথিকের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ অবশেষে মুক্তির মিছিলে যুক্ত হলো। আগামী ২০ জুন মুক্তি পাচ্ছে এই ছবিটি। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বলাকা-২, খুলনার ময়ূরী, নরসিংদির রাজমনিহার, নেত্রকোণার হিরামন হলে মুক্তি পাচ্ছে। পরবর্তীতে সারাদেশে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিচালক। ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্রটি কাহিনী চিত্রের পাশাপাশি তথ্যচিত্রের আবহকে ধারণ করেছে। চলচ্চিত্রটির গান ‘ইস্টিশন’, ‘নিশিপক্ষী’ ও ‘এই সুন্দর দুনিয়া’ ইতোপূর্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এতে অভিনয় করেছেন—শিমলা, জুয়েল মামুনুর রশীদ, প্রবীর মিত্র, রাণী সরকার, তারেক মাহমুদ, রেহানা জলি, জুবায়ের। এছাড়াও নিজ নামে অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণসহ আরও ১৫ জন কবি। সিনেমার পরতে পরতে পর্দায় ভেসেছে ফেলে আসা বাংলার ঐতিহ্য। প্রেম, প্রকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের গাথাসূত্রে তথ্যের ইমেজ ধরে আবহমান বাংলার নিবিড় রিচুয়াল, জীবনের অন্তর্গত দর্শন, তথা জীবনবোধের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয় ছবিটিতে। মোটকথা কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কাহিনীতে বিভিন্ন প্রণীর উপস্থিতির মাধ্যমে প্রাণের যে পরম্পরা তা সুন্দরভাবে দৃশ্যায়ন হয়েছে ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ চলচ্চিত্রে। আর পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার সর্বহারা উপস্থিতি ও পরিচিতি আমাদের অনুভূতিতে ব্যাপকভাবে প্যাথডের ভেতর দিয়ে যায়। পরিচালক মাসুদ পথিক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সুস্থধারার সিনেমা দেখার দর্শক নিতান্ত হাতেগোনা। পরিবেশকরাও এমন সিনেমা নিতে চান না সহজে। যারা আমার সিনেমাটি প্রদর্শনের ব্যাপারে সায় দিয়েছেন তারাও ব্যবসায়িক সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী নন। এত টাকা লগ্নি করলাম। এর কতভাগ টাকা যে উঠে আসবে বা আদৌ উঠে আসবে কি না জানি না।’ ব্রাত্য চলচ্চিত্র প্রযোজিত ও পরিবেশিত চলচ্চিত্রটির মিডিয়া এবং ক্রিটিক শো শেষে ব্যাপক প্রশংসা করেন উপস্থিত সবাই। চলচ্চিত্রটি স্থায়ী আসন নেবে বলেই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন
চলচ্চিত্রপ্রেমী বোদ্ধারা।
