ডাক্তারের
পরামর্শক্রমে আমি ভালো অনুশীলন করেছি। এই উন্নতি আমাকে উত্সাহিত করছে। প্রতিদিনই আমি অধিকতর ভালো অনুভব করছি। শারীরিক ও মানসিক পুরো প্রস্তুতি নিয়েই আমি বিশ্বকাপ খেলব। লক্ষ্যের শীর্ষে পৌঁছতে হলে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিশ্চয়ই, আমার প্রস্তুতির ব্যাপারে আর কোনো
শঙ্কা নেই।
ইনজুরি কাটিয়ে ওঠেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠে ফিরেছেন তিনি। মুখে হাসি কোচ পাওলো বেনতো এবং সতীর্থদের। তারকা উইঙ্গারের দিনে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল। এই জয় দিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বেন্তোর দল। তবে জয়ের চেয়ে পতুর্গালের বড় পাওয়া বলতে হবে রোনালদোর ইনজুরি কাটিয়ে ওঠাকে। তারকা উইঙ্গারের ফিরে আসাকে অনেক বড় পাওয়া বলছেন মিডফিল্ডার ন্যানি, ‘আমি মনে করি তার অবস্থা বেশ ভাল। ম্যাচটিতে সে ভাল খেলেছে। এর মাধ্যমে বুঝা গেল শতভাগ ফিটনেস নিয়েই সে বিশ্বকাপে হাজির হবে।’
একটু-আধটু নয়, পুরো ফিটনেসেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন রোনালদো। ৬৬ মিনিট খেলেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে শতভাগ ফিটনেস নিয়ে মাঠে নামার নিশ্চয়তা দিলেন, ‘ডাক্তারের পরামর্শক্রমে আমি ভালো অনুশীলন করেছি। এই উন্নতি আমাকে উত্সাহিত করছে। প্রতি দিনই আমি অধিকতর ভাল অনুভব করছি। শারীরিক ও মানসিক পুরো প্রস্তুতি নিয়েই আমি বিশ্বকাপ খেলব। লক্ষ্যের শীর্ষে পৌঁছতে হলে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিশ্চয়ই, আমার প্রস্তুতির ব্যাপারে আর কোনো শঙ্কা নেই।’
মঙ্গলবার রোনালদোর ফেরার ম্যাচে দারুণ খেলেছে পর্তুগাল। আয়ারল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রস্তুতির ষোলকলা পূর্ণ করেছে তারা। ম্যাচটিতে খেললে কোনো গোল পাননি রোনালদো। তবে আলমেইদার একটি গোলে দারুণ ভূমিকা ছিল তার। গোল না পেলেও রোনালদোর উপস্থিতি ম্যাচটিতে উজ্জীবিত করেছে সতীর্থদের, সমর্থকদের।
ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই ফরোয়ার্ড হুগো আলমেইদা আয়ারল্যান্ডের জালে বল জড়ালে গোলের খাতা খুলে পর্তুগাল। খেলার ২০ মিনিটে আয়ারল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রিচার্ড কোয়ার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পাওলো বেনতোর দল। খেলার ৩৭ মিনিটে রোনালদোর হেড ধরে আলমেইদা আরও একটি গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধেও গোল উদযাপন অব্যাহত রাখে তারা। এই সময়ে মিডফিল্ডর ভিয়েরিনহা ও ডিফেন্ডার ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাও একটি করে গোল করলে জয়ের পাল্লা আরও ভারি করে পর্তুগাল। তবে এই সময়ে জেমস ম্যাক ক্লিনের নৈপূন্যে একটি গোল পায় আয়ারল্যান্ড।
বিশ্বকাপে অন্যতম কঠিন গ্রুপ ‘জি’ হয়ে খেলবে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচেই তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী দল জার্মানির সঙ্গে। গ্রুপের অপর দু’টি দল হল ঘানা ও যুক্তরাষ্ট্র। কঠিন গ্রুপে পড়লেও রোনালদোর ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলছেন কোচ বেন্তো। আপাতত, গ্রুপ পর্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জার্মানিকে নিয়েই চিন্তা করছেন তিনি, ‘ইউরোতে আমরা জার্মানির সঙ্গে খেলেছি। তাই তাদের বেশ ক’জন খেলোয়াড় সম্পর্কে কিছুটা জানা আছে আমাদের। পক্ষান্তরে তারাও আমাদের সম্পর্কে অনেক বেশি জানে। তারা অনেক ভালো একটি দল। এবারের বিশ্বকাপে তারা অন্যতম ফেভারিট দল। সত্যিই তাদের সঙ্গে আমাদের লড়াইটা অনেক কঠিন হবে।’
এ ক্ষেত্রে গত ইউরো কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বললেন বেনতো, ‘ইউরোতেও আমাদের গ্রুপে নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্কের মতো শক্তিশালী দল ছিল। এর পরেও আমরা গ্রুপ পর্ব উতরাতে পেরেছিলাম। বিশ্বকাপে জার্মানি ছাড়াও ঘানা এবং যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। তারাও শক্তিশালী দল। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটাই খেলব।’
