বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পুরো দেশই এখন দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ ব্রাজিলের সাপোর্টার, কেউ- বা আর্জেন্টিনার। তারকারাও এই উত্তাপের বাইরে নন। নিজ দায়িত্বে ভাগ হয়ে গেছেন দুইভাগে!
পরিবর্তন এসেছে শোবিজ জগতের সিডিউলেও। চ্যালেগুলো তাদের জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলো সম্প্রচার করবে বুঝে-শুনে। খেলা চলাকালীন দর্শকরা অন্যকোনো প্রোগ্রাম দেখবে না—এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সো রিস্ক নিতে রাজি নয় কেউই।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। তারকা জগতের একাংশ তাই নড়েচড়ে স্থির হয়ে বসবেন টেলিভিশনের সামনে। এর ভেতরেই তারা গুছিয়ে নিয়েছেন হাতের কাজ। কিংবা তুলে রেখেছেন ভবিষ্যতের খাতায়।
ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনের প্রথম দিনে যেসব তারকাদের বাজি ব্রাজিলের ঘরে তাদের মধ্যে প্রথম বেঞ্চেই আছেন আইয়ূব বাচ্চু। ব্রাজিলের সমর্থনে করা থিম সংটাই তার প্রমাণ। মার্সেলো, নেইমার, ফ্রেড, অস্কারদের সমন্বিত জাদু দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
আলী যাকের এবং ইরশে জাকের দুজনেই ব্রাজিলের ভক্ত। আলী যাকরের বাবাও ছিলেন তাই। মোটকথা তারা উওরাধিকার সূত্রেই ব্রাজিলের সমর্থক! এবার যে ব্রাজিল শিরোপা জিতবে এতে কোনো সন্দেহ আছে বলে মনে করেন না তারা।
ছোটবেলা ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের খেলা দেখে ফুটবলের প্রেমে পড়েন মিশা সওদাগর। অভিনেতা না হলে হয়তো পেলের মতো ফুটবলারই হতেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও খেলা দেখার অধীর আগ্রহে আছেন। মিস করতে চান না ব্রাজিলের একটি ম্যাচও। বাংলা সিনেমার নাচ ভুলে আগামী দেড়মাস সাম্বা নাচেই মেতে থাকতে চান মিশা!
১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখেন হূদয় খান। তখন থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। ফুটবল খেলা যে একটা শিল্প এটা তিনি উপলব্ধি করেন শুধুমাত্র ব্রাজিলের খেলা দেখলেই। রাতজাগার অভ্যেস তার অনেকদিনের। তাই কোনো ম্যাচই মিস করবেন বলে মনে হচ্ছে না।
নোবেল বরাবরই খেলাপাগল। পেলের মাঠ কাঁপানো খেলা দেখেই ব্রাজিলকে সমর্থন শুরু করেন। ব্রাজিলের খেলা দেখতে বসলে পুরো ৯০ মিনিট একটা উত্তেজনার মধ্যে কাটে তার। তার ছেলে জুনাইনও ব্রাজিলের সাপোর্টার। বাপ-বেটা দু’জন একসঙ্গে খেলা দেখবেন এবার। তার বাসার ছাদ আর গাড়িতে উড়ছে ব্রাজিলের পতাকা।
মাহফুজের মনের ভেতরেই ব্রাজিলের পতাকা আঁকা। সেটা গায়ে জড়িয়ে দেখানোর কিছু আছে বলে মনে হয় না। ক্রোয়েশিয়া কেন, কোনো দেশই এবার ব্রাজিলের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।
নওশীনের বাজিটাও ব্রাজিলের পক্ষে। হিল্লোলের সঙ্গে এই জায়গায় শতভাগ অমিল তার। হিল্লোল আর্জেন্টিনার সার্পোটার বলেই এবারের বিশ্বকাপটা অন্যরকম উত্তেজনায় কাটবে নওশীনের। হিল্লোলের হাসি মানে নওশীনের কান্না!
