মুখোমুখি লড়াই
মোট ম্যাচ ২টি
জয় পরাজয় ড্র র্যাংকিং
ব্রাজিল ১ ০ ১ ৩
ক্রয়েশিয়া ০ ০ ১ ১৮
স্পোর্টস ডেস্ক
ব্রাজিল কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি আজ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই সাও পাওলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেতে মুখিয়ে আছেন। ব্রাজিলীয়দের বহু কাঙ্ক্ষিত হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ঘরে তোলার জন্যও এই ম্যাচে জয়টা প্রয়োজন তাদের। এর মধ্যদিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা করে নেয়ার রসদ পেতে চায় সেলেচাওরা। তবে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় মারাত্মক প্রত্যাশার চাপ থাকছে তাদের উপর। প্রথম ম্যাচ থেকেই এই চাপ সামলে নেয়ার কৌশল রপ্ত করতে চায় স্কোলারির দল।
ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এই দ্বৈরথে নিঃসন্দেহে ফেভারিট ব্রাজিল। অতীত রেকর্ড অন্তত তাই সাক্ষ্য দিচ্ছে। তারা এ পর্যন্ত যে কয়টি বিশ্বকাপ খেলেছে, এর মধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এখনো হারেনি তারা। অতীত রেকর্ড, অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধ ঝুলি এবং গত বছর কনফেডারেশন্স কাপের নৈপুণ্যই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে রাখছে ব্রাজিলকে। সঙ্গত কারণেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় প্রত্যাশা করতে পারে ব্রাজিল।
প্রথম ম্যাচে গত বছরের কনফেডারেশন্স কাপের দলটাই স্কোলারি নামাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই একাদশেই বিশ্বকাপের মহড়ায় দলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গত কারণেই বিশ্বকাপেও ওই একাদশে আস্থা রাখছেন ব্রাজিল কোচ। বরাবরের মতো ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও নেইমারকে আক্রমণ ভাগে রাখছেন স্কোলারি। এছাড়া আক্রমণ ভাগে রাখা হচ্ছে ফ্রেড, অস্কার ও হাল্ককে।
এদিকে, শিরোপা প্রত্যাশী ব্রাজিলের বিপক্ষে তেমন বড় কোনো প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছেন না ক্রোয়েশিয়ার বস নিকো কোভাক। দুর্ভাগ্যবশত দলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ড্যানিজেল প্রাণজিককে খেলাতে পারছেন না তিনি। গত সপ্তাহে সালভাদরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পাওয়ায় তার বিশ্বকাপ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিশ্বকাপ আসরে রেকর্ডও তেমন ভাল নয় ক্রোয়েশিয়ার। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে তৃতীয়স্থান অর্জন করাই তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। পরের দুই আসর থেকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ‘দ্যা ব্ল্যাজারদের’।
* ব্রাজিল কখনোই বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারেনি। এর আগে বিশ্বকাপের আসরগুলোতে নিজেদের প্রথম ২০টি ম্যাচের ১৪টিতে জয় পেয়েছে তারা। ছয়টি ম্যাচ হয়েছে ড্র।
* এর আগে ১৯৫০ সালেও স্বাগতিক ছিল ব্রাজিল। ওই বারও ‘এ’ গ্রুপের হয়ে খেলেছিল সেলেসাওরা এবং উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৪-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছিল তারা।
* গত ১২টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ একটি গোল বা গোলশূন্যতার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।
* বিশ্বকাপ আসরেও সেলেসাওরা সবচেয়ে বেশি ৬৭টি ম্যাচ খেলেছে। সবচেয়ে বেশি (২১০) গোলের রেকর্ডটাও তাদেরই দখলে।
* ব্রাজিল বিশ্বকাপ আসরে গ্রুপ পর্বে সর্বশেষ নয়টি ম্যাচের আটটিতেই জয় পেয়েছে। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে তাদের সর্বশেষ পরাজয় ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে।
* ক্রোয়েশিয়া এ পর্যন্ত ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে মাত্র ১১টি গোল হজম করেছে। বিশ্বকাপে কম গোল হজম করার অনুপাতে এবারের বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া দলগুেলোর মধ্যে তাদের সাফল্যই বেশি।
* গত নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ছয়টি লাল কার্ড পেয়েছে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা।
* এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন কাকা।
