খোন্দকার আশরাফ হোসেন

কবিতায় দূরাগত সম্মোহন

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ১৯:৫০
খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতায় উষ্ণতা আছে। এ উষ্ণতা গতির, এ উষ্ণতা শিল্পের। কারণ গতিই শিল্পের বাহন। কবিতা হলো অনুভবের শিল্পিত প্রকাশ। তাঁর কবিতা একবার নয় বার বার পাঠে বুঝে নিতে হয়। একাধিক পাঠের কারণে পাঠকের ভেতরে এক ধরনের সম্মোহন জাগে। যাকে বলা যায়, কাব্যিক সম্মোহন। কবিতার মধ্য দিয়ে সম্মোহন সৃষ্টি করতে পারা কবির অন্যতম কৃতিত্ব। খোন্দকার আশরাফের কবিতা পাঠে যে ভালোলাগা জন্ম নেয়, সে ভালোলাগার জারক রস ভেঙেচুরে বিশ্লেষণী কৌশলে বের করে আনতে হয় কবিতার মর্মবাণী। তাতে পাঠককে কিছুটা পরিশ্রমী হতে হয় বৈকি। কিন্তু শেষ বিচারে সচেতন পাঠকই জয়ী হন। ইউরোপে আধুনিকতার সম্পূর্ণ ও সফল যাত্রা শুরু দুই বিশ্বযুদ্ধ মধ্যবর্তী সময়ে। বাংলা কবিতায় সে আধুনিকতার নন্দনধ্বনি বেজে ওঠে বিশ শতকের তিন দশকে। যারা এর নাটের গুরু তাদের নাম কবিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কম বেশি সবারই জানা। এরপর সময়ের বিবেচনায় বাংলা কবিতা এগিয়েছে বহুদূর। চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই পেরিয়ে শূন্যদশকের পরের কবিরা এখন কাব্যচর্চায় নিয়োজিত। কবি আশরাফ আশির দশকের কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিন রমণীর ক্বাসিদা’ প্রকাশ পায় ১৯৮৪ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘পার্থ তোমার তীব্র তীর’, ‘জীবনের সমান চুমুক’, ‘সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুর’, ‘যমুনাপর্ব’, ‘জন্মবাউল’, ‘তোমার নামে বৃষ্টি নামে’, ‘আয়না দেখেই অন্ধ মানুষ’। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নির্বাচিত কবিতা ও কবিতা সংগ্রহ। স্বাধীনতা উত্তর বাংলা কবিতায় অর্থাত্ সত্তরের অধিকাংশ কবির কবিতায় যে উচ্চকণ্ঠী সরবতা দেখা গেছে আশিতে এসে কবিতার যাত্রা মোড় নিয়েছে ভিন্নপথে। কবিতা ততদিনে অনেক বেশি আত্মমুখিন। আশিতে এসে কবিতায় আত্মগত অহংকারের অনুভবে জন্ম নিয়েছে স্বতন্ত্র দার্শনিকতা। মানব অস্তিত্ব বিষয়ক ভাবনাবলি, জন্ম ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তর্মুখিন ভাবনার বলয়ে যে পরিদৃশ্যমান বাস্তবতা তাকেই সে সময়ের দুয়েকজন কবি তাঁদের কবিতায় সফলতার সঙ্গে সংলগ্ন করতে পেরেছেন। তাঁদেরই অন্যতম খোন্দকার আশরাফ হোসেন। কারণ, অর্ন্তগত স্মৃতিবোধে কবি যতটা নিমজ্জিত ঠিক ততটাই আত্মমুখিন হয়ে ওঠে তার কবিতা। এ ধরনের Subjectivity কিংবা আত্মমুখিনতা যেকোনো কবিকেই আত্মবিশ্লেষণের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে কবি হয়ে ওঠেন অনেক বেশি আত্মানুসন্ধানী। সে আত্মানুসন্ধানের সূত্র ধরেই কবির বোধে জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাস। আর এ ধরনের আত্মবিশ্বাসের রুপালি ঝালর ছায়া দোলায় আশরাফের কবিতায়। কবি আশরাফ আবহমান বাঙালি কবির সহযাত্রী। ঐতিহ্যসচেতন ও ঐতিহ্যসম্পৃক্ত কবি। অতীত থাকে বর্তমানে মিশে এবং বর্তমান দ্বারা ভবিষ্যত্ নির্দেশিত হয়। জীবনানন্দ যাকে কালচেতনা বলে অভিহিত করেছেন। আশরাফের কবিতায় সময়ের ধাপসমূহ চিহ্নিত এবং তার স্বরূপও সুস্পষ্ট। কবি কেবল নিজেকেই লেখেন না। স্বসময়, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন ঘটনাবলির চিত্রও এঁকে যান কবিতায়। এসব কিছু কবির কবিতায় ছায়া ফেলে। কোনো সচেতন কবি এসবের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারেন না। কি জ্ঞানে কি অজ্ঞানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের একজন সজিব চিত্রকর হয়ে ওঠেন একেকজন কবি। আশরাফও এর ব্যতিক্রম নন। কবিতায় আঙ্গিক ও বিষয় একে অপরের পরিপূরক। পৃথিবীতে প্রেম, ভালোবাসা, জন্ম, মৃত্যু, দুঃখ ও বেদনা এসব কোনো কিছুই নতুন নয়। কিন্তু বিষয় হিসেবে এসবকে ফুটিয়ে তুলতে যিনি নতুনত্বের আশ্রয় নিতে পারেন তিনিই স্বতন্ত্র হয়ে ওঠেন। আশরাফের কবিতার বিষয় প্রকৃতি, নারী, প্রেম, মৃত্যু, ভালোবাসা, হতাশা, সমাজ বাস্তবতা, রাজনীতি ইত্যাদি। এসবের প্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি একান্ত নিজস্ব ভঙ্গিতে। আঙ্গিক নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। তাঁর একই কবিতায় একই সঙ্গে একাধিক ছন্দের সাবলীল ব্যবহার লক্ষণীয়। এ প্রসঙ্গে ‘সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুর’ কাব্যগ্রন্থের ‘বেহুলা বাংলাদেশ’ কবিতাটি উল্লেখ্য। কবি ছন্দের ভাঙচুরও করেছেন যথেষ্ট। এছাড়া শব্দ ব্যবহার ও ভাষা নির্মাণের প্রশ্নে তিনি ব্যতিক্রম। আবহমান বাংলা কাব্যের অন্যতম এক বৈশিষ্ট্য ভাবালুতা। কিন্তু আশরাফ তাঁর কবিতায় আশ্চর্য বাক সংযমের পরিচয় দিয়েছেন। শাসিত আবেগ ও পরিমিতি বোধের কারণে তাঁর কাব্যিক রুচির স্থান অনেককে ছাড়িয়ে গেছে। আশরাফের আবেগ সংযমী কিন্তু তা গভীর। তাঁর কবিতায় শব্দব্যবহারে তেমন দুরূহতার দেখা মেলেনি। বরং যে সমস্ত বিশেষ্য ও বিশেষণমূলক শব্দ ব্যবহারে নতুনত্ব দেখিয়েছেন তার সবই আমাদের পরিচিত ও প্রচলিত শব্দ। এছাড়া তিনি সার্থকভাবে প্রচুর লোকজ শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাই বলে কবিতা গেঁয়ো হয়ে ওঠেনি। কবিতায় ব্যবহূত শব্দসমূহ আধুনিক ও পরিমার্জিত। কবি বলছেন, ‘আবার আসবো কাল বসবো এ ক্ষেতের কিনারে/ বিছানো গামছার দেহে টুপটাপ মাঘের রাতের হা-হুতাশ/ দাকিনা মাছের মতো জালির সুতোর প্রেম গলায় জড়াবে/ আবার আসবে তারা খেয়ে যাবে নির্বিকার খন্দের কাউন/ তিল তিসি, তবু কি আমরা থাকি মুগ্ধ চোখে তারই প্রতীক্ষায়?’ কেউ কেউ ঐতিহ্য অন্বেষণ, রূপকজ নির্মাণ ও মিথ ব্যবহারে আশরাফের কবিতায় আল মাহমুদ কিংবা আবুল হাসানের প্রভাবের কথা বলেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থে এদের কিছুটা প্রভাব রয়েছে সত্য। কিন্তু পরবর্তী কাব্যেই আশরাফ স্বকণ্ঠ ধারণে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজেই ঘোষণা দিচ্ছেন এভাবে—‘আমি একটু অন্যরকম পেখম মেলার ইচ্ছে রাখি/ বুকে আমার একটু জখম অন্যরকম/ রক্তপাতের পরে যেমন নিঃস্ব মানুষ নিশ্চেতনায় ঘুমিয়ে থাকে/ আমি তেমন ঘমিয়ে ছিলাম দীর্ঘসময়/ আত্মঘাতী যুদ্ধ শেষে একটু বাঁচার ইচ্ছে রাখি।’ এ ক্ষেত্রে জীবনানন্দ যেমন বলেছিলেন, ‘কেহ যাহা জানে নাই-কোনো এক বাণী/ আমি বহে আনি।’ সে অন্যরকম পেখম মেলার ইচ্ছেতেই আশরাফ কাব্যে আপন অভিজ্ঞতাকে নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে সর্বদাই ছিলেন সচেষ্ট। আশরাফের কবিতায় লোকঐতিহ্যের ব্যবহার প্রশ্নে উত্তরাধুনিকতার কথাটি উল্লেখ করা জরুরি। এ তত্ত্বের বহুমুখী প্রবণতার অন্যতম ঐতিহ্যমুখিনতা কিংবা উেসর দিকে ফেরা। ঐতিহ্যসন্ধানী হয়ে কবিতাকে সংহত, গভীর ও বহুমাত্রিক করে তোলা। আশরাফের কবিতায় উত্তরাধুনিকের এ প্রবণতা সমমাত্রায় সমুজ্জ্বল। তবে তাঁর চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুরে এ বৈশিষ্ট্যের প্রাথমিক প্রকাশ ঘটলেও তা আরো অনেক বেশি পরস্ফুিট পরবর্তী দু’টি কাব্যগ্রন্থে। সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুরের কবিতা কোলাজের বারোটি কবিতার প্রায় সব কটিতেই কবি লোকঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে তৈরি করেছেন অপূর্ব রূপকল্প, অনুভাবনার তাত্পর্যকে পরিবর্তিত করে কবিতাকে করেছেন বহুমাত্রিক ও অর্থদ্যোতক। এজন্যে বলা যায় লোকঐতিহ্যের ব্যবহার আশরাফের কবিতার প্রিয় অনুষঙ্গ। আবহমান কালের চেতনার সঙ্গে বর্তমানকে সম্পৃক্ত করতে অনেক সময়ই মিথের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মিথের সাংকেতিক দ্যোতনায় কবি তার বোধের আলো কবিতায় ছড়িয়ে দেন। পাঠকও খুঁজে পান কালগত অন্বয়। আশরাফের কবিতায় ভারতীয়, গ্রিক ও মুসলিম মিথের অনায়াস ব্যবহার লক্ষণীয়। তিনি তাঁর ‘সেকেন্ড কামিঙ’ কবিতায় বলছেন, ‘চোখে তার মেডুসার ক্রুর হাসি/ মানুষের সবুজ হূদয় তার দৃষ্টিপাতে নীলাভ পাথর/ পড়ে থাকে বহুদূর লীবানের প্রান্তরে যেমন/ লুতের লাবণ্য পত্নী/ পশ্চাতে দু’হাতে তালি বাজায় শহর এক/ ধ্বংসমুখী পাপাক্রান্ত মানুষের ভ্রান্ত ঘরবাড়ি।’ যে কথা আগেই বলেছি, জীবন, জগত্ মহাকাল নিয়ে দার্শনিক ভাবনার পূর্ণায়ত রূপ আশরাফের কবিতায় বিদ্যমান। তাঁর কাব্যপাঠে একজন স্থিতধী দার্শনিকের পরিচয় মেলে। কবির প্রথম দু’টি বইয়ের গ্রন্থিত আবেগে লুপ্ত রয়েছে তাঁর কাব্যিক নির্যাস। ভাবনার সার্বিকতায় তৈরি হয়েছে কাব্যিক রসায়ন। তবে কোনো একক ভাবনা বলয় চিহ্নিত হয় না এ দু’টি বইতে। তৃতীয় বইতে যে মানবিকতার বিকাশ লক্ষ করি তাতেও এক পর্যায়ে সংশয় এসে মেশে। তবু জয়ী হয় মানবের অমিত সম্ভাবনা। কবি বলে ওঠেন, ‘মানুষকে কেউ ধারণ করতে পারে না/ না নিসর্গ না ঈশ্বর না প্রেম না ঘৃণা/ মানুষের হাতে নীল বেলুন তার চোখে দুই কালো মাছি/ মানুষকে কেউ ধারণ করতে পারে না, মানুষের কোনো জন্মদাতা নেই/ তার কটির উত্তাল যৌবন কারো উত্তরাধিকার নয়।’ এক পর্যায়ে এ কবি মানবই আবার হয়ে ওঠেন দ্বিধান্বিত এবং তাঁর লক্ষ্য হয়ে পড়ে গন্তব্যহীন। আমার মুঠো থেকে গড়িয়ে পড়লো/ শান্তি ও সুখাদ্যের মতো নষ্ট পেয়ারা/ এবং সহসা এক প্রেমিক চিল তাতে চুম্বনের সিলমোহর/ দেগে দেয়ার জন্যে নিয়ে গেলো আকাশের ডাকঘরে/ শুধু আমার দু’চোখে তখন কোনো গন্তব্যের শিরোনাম নেই।’ কবির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুর। এ বইতে কবির দেশাত্মবোধ প্রবল। আত্মমুখী ভাবনা থেকে কবি যেনো তাঁর দৃষ্টি ছড়িয়ে দিলেন প্রান্তরে প্রান্তরে। সমাজবাস্তবতার তীক্ষ ছুরিতে বিদ্ধ হলো কবির হূদয়। আমার স্বদেশে সুখ্যাতি আছে সবুজের/ এবং চোখের দৃষ্টির জন্য সবুজের মতো ভালো/ চিকিত্সা নেই/ রমণীরা কলাপাতা শাড়িতে চমত্কার মানিয়ে যায়।’ কবির পঞ্চম কাব্যগ্রন্থে সময় ও সমাজভাবনা আরো ঘনীভূত এবং তা রূপায়ণে তাঁর দক্ষতার ছাপ সুস্পষ্ট। জীবন জগত্, মহাকাল নিয়ে কবির যে দার্শনিক বোধ তার সফল উন্মোচন রয়েছে জন্মবাউল বইটি ঘিরে। উদার মানবিকতার জয়গান, সময়কে চিহ্নিত করার অপূর্ব কৌশল রয়েছে এ বইতে। তিনি বলছেন—‘দুঃখ হলো এক গিটার যে বাদকের আঙুল কেটে/ নিজের তারের ধার পরীক্ষা করে/ সুখ এমন বাড়িওলা/ ঘর খালি নেই তবু টুলেট নামায় না/ দুঃসময় এমন বিরাট গেট/ যার ভেতর দিয়ে দেখা যায় বন্ধুর আসল মুখ। প্যাট্রিক কারানাফ বলেছেন, ‘অভিজ্ঞতার প্রাচুর্য কবির প্রকাশকে সরল করে তোলে।’ এর প্রমাণ আশরাফের এ কবিতার বই। যতো সময় গেছে আশরাফের কবিতায় অভিজ্ঞতার আলো ততো সুস্পষ্ট হয়েছে। লক্ষ্য করা গেছে, ধাপে ধাপে তার উত্তরণ। তবে শেষ পর্যায়ে এসে আশরাফের আরেকটি ব্যতিক্রমী দিকের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। বলা হয়ে থাকে, পুরুষমাত্রই নারীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। আর কবি হলে তো কথাই নেই। অনেক কবির মতোই আশরাফের কবিতাতেও নারীর প্রসঙ্গ রয়েছে। কিন্তু সে নারী এসেছে ভিন্নভাবে। এ ভিন্নতার কারণ আশরাফের অহংকারী পৌরুষ চেতনা। যার প্রকাশ এরকম—‘আমাকে বুঝতে চাও এ সাহস কবে থেকে হলো/ আমার জীবন তুমি দু’হাতের অঞ্জলিতে নিয়ে/ ধীরে ধীরে চেখে দেখবে আমি নই এমন সহজ/ দুঃখের ভেতরকার নম্র শাঁস তোমাদের সচ্ছল জিভের বিনীত শিকার নয়/ কণ্টকিত গোলাপের ডাল ছোঁবে তুমি/ রক্তাক্তই হবে শুধু দু’হাত তোমার।’ কবি শঙ্খঘোষ বলেন, ‘লিখতে হবে নিঃশব্দে কবিতা এবং নিঃশব্দ কবিতা। তার জন্যে বিষম ঝাঁপ দেবার দরকার আছে দুঃসহ আড়াল থেকে।’ দৈনন্দিনের গৃহপালিত একজন মানুষ অনেক ডামাডোলকে পাশ কাটিয়ে তার বোধের মুখোমুখি হন। সত্যকে পরখ করেন এবং মোকাবিলা করেন। তারপর অন্তরালের অসহ্য বেদনা ছিন্ন করে আত্মপ্রকাশ ঘটান নিজের কিংবা বলা যায় ফুটিয়ে তোলেন উপলব্ধিগত ভাবনা। কবি আশরাফের কবিতায় নিমগ্ন নিঃশব্দতা নয়, আছে এক ধরনের দূরাগত সম্মোহন। যা আপন হয়েও অনাপন, কাছের হয়েও দূরের এবং নিজের হতে হতেও ঠিক যেন নিজের জন্যে কিছু নয়। এক ধরনের রহস্য, এক ধরনের ছায়াখেলা। যেন প্রাত্যহিকতার সঙ্গে সংগীতের মাধুর্যতায় ফুটে ওঠা অন্ধকার ছিন্ন করা এক ফালি আলো।