আমি এসএসসি পাস করার পর আর খেলাধুলার প্রতি তেমন আকর্ষণটা ছিল না। ফুটবল, ক্রিকেট বা অন্যান্য খেলাধুলা যতটুকু করেছি বা উপভোগ করেছি সেটা স্কুলজীবনে। এসএসসি-র পর পড়াশোনার প্রতিই মনোনিবেশ ছিল বেশি। তবে ১৯৮৬ সালে যখন ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ ফুটবল খেললেন, তখন থেকেই বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে শুরু করি। এবং এটাই আমার প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা। একমাত্র ম্যারাডোনার কারণেই আমি খেলা দেখতে শুরু করি। ওই সময় সকলকে পাশ কাটিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের গোলে ঢুকে গোলকিপারকে পরাভূত করে যেভাবে একটি গোল দিয়েছিলেন, তা আমাকে এতটাই অভিভূত করেছিল যে, মূলত সেই গোলটি দেখেই আমি ম্যারাডোনা এবং আর্জেন্টিনা দলের ভক্ত হয়ে যাই। এর পর থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হলে বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা হলে দেখতাম, কিন্তু আমার পড়াশোনা এবং সাহিত্য বাদ দিয়ে খেলা দেখার পক্ষপাতি আমি নই। তবে খেলাধুলা বিষয়ক বই পড়তে, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জীবনী পড়তে, তাদের জীবন সম্পর্কে জানতে আমি খুব আগ্রহ বোধ করি। একটা মজার বিষয় আছে, ওই সময় খেলা দেখার পরে একটা সহজ বাংলা ব্যাকরণ লিখতে চেষ্টা করেছিলাম যা শুরু হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দিয়ে, ম্যারাডোনার খেলার শিল্পকৌশলকে মনে রেখে। বইটিতে চরিত্র হিসেবে নিয়েছিলাম ম্যারাডোনাকে। একসময় দল হিসেবে রাশিয়ান দল আমার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে প্রতিবার ছিটকে যাওয়ায়, ওই দলের প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি এবং এরপরই আর্জেন্টিনা আমার প্রিয়তর দল হয়ে ওঠে, যা আজ পর্যন্ত তা অব্যাহত আছে।
এখন চারদিকে বিশ্বকাপের উত্তেজনা চলছে। ব্যক্তিগতভাবে এ নিয়ে আমি একেবারেই উত্তেজিত নই। সবাই বলছে যে, ব্রাজিল খুব গোছানো দল। ব্রাজিলের হাতেই চলে যাবে বিশ্বকাপ। কিন্তু যেহেতু আর্জেন্টিনা আমার প্রিয় দল এবং ম্যারাডোনার পর মেসিই আমার প্রিয় খেলোয়াড়, সে কারণে আমি মনেপ্রাণে চাই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হাতেই যাক, ব্রাজিল নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে আমি অত্যন্ত খুশি হব, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যোগ্যতর দল হিসেবে যে দলই বিশ্বকাপ জিতুক, তাদের স্বাগত জানাতে আমার দ্বিধা হবে। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের ক’টা খেলা দেখতে পারব, জানি না, তবে আর্জেন্টিনার খেলা সময়-সুযোগ পেলে অবশ্যই দেখব।
বাংলাদেশে ব্রাজিল দলের সমর্থক অনেক বেশি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সমর্থক যে কম নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই দুই দলের পতাকা দেখলেই তা বোঝা যায়। তবে আর্জেন্টিনার যারা সমর্থক, যারা আর্জেন্টাির খেলা পছন্দ করেন, তাদের চেতনার মান অন্য দলের সমর্থকদের চেয়ে বেশি বলে আমার মনে হয়। কারণ, আর্জেন্টিনার খেলার মধ্যে সেই ম্যারাডোনার সময় থেকে যে শিল্পসুষমামণ্ডিত খেলা আমরা দেখেছি, আর্জেন্টিনা দলে এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত আছে। আমার মনে হয়, ফুটবল খেলাকে শিল্পসম্মত করে তোলার ব্যাপারে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্বকাপ খেলুড়ে দলগুলোর চেয়ে আর্জেন্টিনা অনেক বেশি এগিয়ে আছে।
