মেসিকে খারাপ জানতেন নেইমার!

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ১৯:৫৩
আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে নাকি বন্ধুত্ব হতে পারে না! এই ‘মিথ’ অনেক আগে ভেঙে দিয়েছিলেন রোনালদিনহো আর মেসি। বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার রোনালদিনহোর রীতিমতো ছোট ভাই ছিলেন আর্জেন্টাইন ‘কিশোর’ মেসি। তখন মেসিতে এতোটাই আগলে রাখতেন রোনালদিনহো, যে সেটা আলোচ্য বিষয়ও হয়ে দাড়িয়েছিলো। বহু বছর পর সেই ইতিহাস যেন ফিরে এসেছে। আবার সেই বার্সেলোনা এবং সেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে বন্ধুত্ব। এবার ‘বড় ভাই’ সেদিনের কিশোর, আজকের দুনিয়ার অন্যতম সেরা ফুটলার মেসি এবং ‘ছোট ভাই’ ব্রাজিলের তরুণ তারকা নেইমার। এই জুটির বন্ধুত্বও ইতিমধ্যে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু নেইমার বলছেন, তিনি বার্সেলোনায় যাওয়ার আগে উল্টোটা ভেবেছিলেন। অন্তত মেসির সম্পর্কে যেসব খারাপ কথা শুনেছিলেন, তাতে বন্ধুত্ব হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই তিনি দেখেননি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ঠিক আগে আগে সাংবাদিকদের বলছিলেন সেই সময়ের কথা। যখন বার্সেলোনায় যাওয়ার আগে লোকেরা মেসিকে নিয়ে তার কান ভারী করছিলো। একেবারে মন খুলে নেইমার বললেন, ‘আসলেই মেসি আমাকে পরে খুব অবাক করেছে। আমি ওখানে যাওয়ার আগে ওর সম্পর্কে ভয়ঙ্কর সব কথা শুনেছিলাম। আমি শুনেছিলাম, ও নাকি একেবারে একা একা থাকে, কারো সঙ্গে মেশে না, সৌজন্য আলাপ পর্যন্ত করে না। যদিও রোনালদিনহো আমাকে অন্যরকম বলেছিলেন। কিন্তু লোকেরা বলছিল, মেসির মতো অমিশুক খেলোয়াড় আর হয় না! কিন্তু আমি গিয়ে দেখলাম, একেবারে উল্টো চরিত্রের মানুষ ও।’ কেমন চরিত্রের সেটাও খুলে বলেছেন ব্রাজিলের বর্তমান যুগের স্বপ্নসারথী নেইমার, ‘ও জিনিয়াস, তাতে তো সন্দেহ নেই। তবে আমার কাছে যেটা ভালো লাগে ও মাঠে ও মাঠের বাইরে খুব সহযোগিতা করে। আর মজা করতে খুব পছন্দ করে। এখন যখন ভাবি, ও কতোটা মিশুক আর ভালো মানুষ; সেই পুরোনো কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে। সত্যি বলছি, মেসির মধ্যে আমি আজ পর্যন্ত সমালোচনা করার মতো কিছু দেখিনি।’ যদিও এখন নেইমারের মনপ্রাণ পুরোটাই ব্রাজিলে। কিন্তু বার্সেলোনার জীবন নিয়েও অনেক কথাই বলতে হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা জানাতে হচ্ছে। সেটা থেকে নেইমার বললেন, ‘এটা আমার বাড়ির বাইরে প্রথম মৌসুম ছিল। কষ্ট হয়েছে। পরিবার, বন্ধুদের ছেড়ে এতোদূর থাকতে কষ্ট হয়। তবে পেশাদার হিসেবে এটা তো মানতেই হবে। আমি বলতে পারি, আমার এই সময়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। আমি অনেক কিছু শিখেছি। কেউ মাঠের বাইরে শিখিয়েছেন, কেউ মাঠে শিখিয়েছেন। অনেক কিছু বুঝেছি, যা বুঝতাম না।’ অবশ্য নেইমার বলছেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই বড়দের কাছ থেকে শেখার ব্যাপারটা চালু রেখেছেন। একেবারে যখন পিচ্চি ছিলেন, তখন থেকেই রোমারিও, রোনালদোদের দেখে শিখেছেন; এখন মেসি, ক্রিস্টিয়ানোদের দেখে শিখছেন, ‘রোমারিও ও রোনালদোকে দেখে একসময় পাগল হয়ে যেতাম। আমি ওনাদের দেখে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। ২০০২ বিশ্বকাপে ওনাদের খেলা আমার চোখে লেগে আছে। আমি আসলে বিশ্বের সবার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেই। মেসি-রোনালদোর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত্ম আমি আমার নিজের পথে হেটেই দলের সঙ্গী হতে চাই।’ বড়দের কাছ থেকে কতোটা অনুপ্রেরণা নেন, এটা বোঝাতেই বলছিলেন, ছোটবেলায় রোনালদোকে দেখে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তার মতো চুলও কেটেছিলেন, ‘২০০২ সালে আমি রোনালদোর মতো করে চুল কেটেছিলাম। সেটা আমার ঠিক মনে নেই। তবে ওরকম করেছিলাম। আমার মনে আছে, সেই বিশ্বকাপের পর কেমন মজা করেছিলাম আমরা।’ এবার সেই নেইমারদের দিকে চেয়ে আছেন সেই রোনালদোরা; উত্সব করবেন বলে!