২৪ বছরের ক্ষরা। জুলে রিমে ট্রফিটাকে নিজেদের করে নেয়ার পর বিশ্বকাপহীন দুটি দশক কাটালো ব্রাজিল। নতুন করে নিজেদের চেনানোর শুরুটা হল ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালেই চলে আসলো সেলেচাওরা। এর মধ্যে জিতে নিল দুটির শিরোপা। ব্রাজিলের সেই দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দুই নায়ক বেবেতো ও রোনালদো। দুজন মিলে বিশ্বকাপে করেছেন ২১টি গোল। দুই কিংবদন্তীকে এক জায়গায় এনে সাক্ষাত্কার নিয়েছে স্কাই স্পোর্টস। কথা বলেছেন ব্রাজিলে চলমান বিশ্বকাপের নানা ব্যাপার নিয়ে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলগুলোর সম্ভাবনা ও আয়োজক দেশ হিসেবে ব্রাজিলের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রসঙ্গগুলো স্বাভাবিক ভাবেই চলে এসেছে এই দুই কিংবদন্তীর আড্ডায়।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ সুযোগ—
রোনালদো: ব্রাজিলের এবার বিশ্বকাপ জয়ের দারুণ একটা সুযোগ আছে। আর সেটা কেবল দেশে খেলা বলেই নয়, আমরা দল হিসেবেও দারুণ। শক্ত একটা ডিফেন্স, লড়াই করার মত একটা মিডফিল্ড আর নেইমারের মত একজন খেলোয়াড়—সব কিছুই আমাদের পক্ষে আছে।
বেবেতো: সমর্থকদের কথাটাও মাথায় রাখা উচিত। ১৯৮৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পিছনে তাদের একটা বড় অবদান ছিল। আর এবারও তাদের বড় একটা ভূমিকা থাকবেই।
অন্যান্য দলের প্রসঙ্গে—
রোনালদো: আমার মতে বিশ্বকাপের লড়াইটা হবে মূলত চারটা দলের মধ্যে—ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তারা অবশ্যই ফেবারিট, তবে একই সাথে ইতালির কথা মাথায় রাখতে হবে। ওরাও বেশ ভাল দল। রাশিয়া কিংবা ইংল্যান্ড এবার চমকে দিতে পারে। উরুগুয়েও ভাল, কিন্তু সবার উপরে আমি এগিয়ে রাখবো ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে।
জ্বলে উঠবেন যে তারকারা—
বেবেতো: অবশ্যই আমরা আশা করবো যে, নেইমার এবার অসাধারণ কিছু করে দেখাবেন। এর বাদেও অস্কার, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মত অতিমানবীয় কিছু খেলোয়াড় আছে। আরও অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারেন। তবে, ব্রাজিলকে অবশ্যই নেইমারের উপর ভরসা রাখতে হবে।
রোনালদো: দারুণ একটা বিশ্বকাপ হবে এটা। সারা বিশ্বের দক্ষ এক ঝাঁক খেলোয়াড় এখানে নিজেদের কারুকাজ দেখাবেন। এটা হবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের এক মিলন মেলা। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের খেলতে না পারাটা কিছুটা আলো কেড়ে নেবে। তবে, আমার মতে ও বিশ্বকাপ দেখতে ঠিকই ব্রাজিলে চলে আসবে।
আয়োজক হিসেবে ব্রাজিল—
রোনালদো: নি:সন্দেহে আমরা আয়োজক হিসেবে শতভাগ কাজ করতে প্রস্তুত। এটা আমাদের জন্য অভাবনীয় একটা সুযোগ। আমরা দারুণ একটা সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। শুধু স্টেডিয়াম কিংবা অবকাঠামো নয়, এর ফলে আমাদের শহরগুলো আরও উন্নত হয়ে উঠবে। টুরিস্টরা এখান থেকে দারুণ কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরবেন বলেই আশা করছি। ব্রাজিলিয়ানদের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ হবেন। এখানে সবাই দারুণ কিছু সময় কাটাতে পারবেন। এখানকার সংস্কৃতি, শহরের নানা দর্শনীয় স্থান ও সুন্দর শহরগুলো দেখার সুযোগ তো থাকছেই।
